রাজশাহী

বাসাবাড়িতে কাজ হারিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামছেন রাজশাহীর কর্মজীবি নারীরা

নিউজ ডেস্ক১৬ মে ২০২০২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনা পরিস্থিতিতে বাড়ছে বেকারত্ব তার সাথে বাড়ছে ভিক্ষাবৃত্তি। রাজশাহী নগরীর ওলিতে গলিতে সকাল থেকে আসা যাওয়া চলছে অনেক নারীর। কারও মুখে নেই মাস্ক। করোনা সম্পর্কে জানলেও পেটের ক্ষুদা তাদেরকে মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য করেছে।

হাতে গোনা দু একজন পুরুষ মানুষ এদের মধ্যে বাকি সকলেই নারী। কেও কম বয়সী কেও আবার বৃদ্ধ বয়সী। চার বছরের মেয়ে সন্তান সুমাইয়াকে (৪) কোলে নিয়ে মনিরা (৩০) রাস্তায় নেমেছে সাহায্য নিতে। তার বাড়ি মালদা কলোনি। স্বামী দিন মজুরের কাজ করতো। বর্তমাম করোনা পরিস্থিতির কারণে বেকারত্ব জীবন কাটাচ্ছে। তাই মনিরা সন্তানকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি সাহায্য নিতে বেরিয়েছে। দুজনের মুখে নেই মাস্ক। মৃত্যুর ভয় ভুলে পেটের দায়ে হাত পাতছে সকলের কাছে। তিনি সিল্কসিটিনিউজের কাছে বলেন, স্বামী এখন বেকার। বাড়িতে কোনো টাকা পয়সা নেই। বড় বড় সাহায্য সবাইকে দিচ্ছে না আমিও পাইনি। আমার ছোট বাচ্চার পেট ভরানোর জন্য সাহায্য নেই। বাচ্চাতো রোজা রাখতে পারবেনা।

অল্প বয়সী রেবা (২৫)। একজন পুলিশের বাসায় কাজ করে খেতো। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাড়িতে যা টাকা পয়সা ছিলো, খাবার ছিলো প্রায় সবই শেষ। তাই রাস্তায় নেমে বাড়ি বাড়ি সাহায্য নিতে হচ্ছে। রেবা বলেন, কোনো টাকা জমিয়ে রাখিনি। আমি যা টাকা পেতাম কাজ করে তা দিয়েই পরিবার চলতো আমার। বাবা মা অসুস্থ। ত্রাণ সহজে দিতে চায়না। যা পাইছিলাম শেষ সব। কাজ নাই পেটের দায়ে বের হইছি সাহায্য নিতে।

হোটেল কর্মী কহিনুর। স্বামী ৪ বছর থেকে স্ট্রক করে বিছানা সজ্জায়। বাড়িতে অল্প বয়সী ছোট মেয়ে আর বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। যা ইনকাম করতো হোটেলে রান্না করে তা দিয়েই সংসার চলতো। করোনাভাইরাসের কারণে হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ইনকামও বন্ধ হয়েগেছে। তিনি বলেন, পরিবারে আমি একাই ইনকাম করতাম। করোনাভাইরাসের কারণে সেটাও বন্ধ। মেয়ের প্রয়োজন মেটাতে পারছিনা। শুধু খাবার খেলেই তো হয়না আরও অনেক কিছুই লাগে সংসারে। ত্রাণ পাইছি কিন্তু বেশি দিন পার হচ্ছেনা তা দিয়ে।

করোনাভাইরাস এখন রাজশাহী নগরীতেও হানা দিয়েছে। কিন্তু এমন লক ডাউনে সকলের কাজ বন্ধ। এতে বেড়ে চলেছে ভিক্ষাবৃত্তি। মানুষ দুটো খাবারের জন্য লজ্জা ত্যাগ করে হাত পাতছে সকলের কাছে।

ট্যাগ: