সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হলো— ‘বায়তুল মাল’। এটি কেবল একটি কোষাগার নয় বরং ন্যায়বিচার, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক অর্থনীতির বাস্তব রূপ। ইসলামের পরিভাষায় বায়তুল মাল কী, এর উৎস, খাত ও কার্যাবলি— এই বিষয়গুলো নিয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি আলোচনা উপস্থাপন করা হলো—
বায়তুল মাল (بيت المال) কী?

বায়তুল মাল (بيت المال) ইসলামি সরকারের সরকারি ধন-সম্পদ, খাজনা বা ট্রেজারি, যা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত ইসলামি সরকারের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সেবার জন্য সংরক্ষিত তহবিল। ইসলামি সমাজে দরিদ্র, অনাথ, অসহায় ও সেবামূলক কার্যক্রম চালানোর একটি প্রধান মাধ্যম।
বায়তুল মাল শব্দটি আরবি— বায়ত (بيت) অর্থ ঘর বা কেন্দ্র; আর মাল (مال) অর্থ সম্পদ।
ইসলামের পরিভাষায়— ইসলামি রাষ্ট্রের সকল বৈধ আয় সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণে ব্যয়ের কেন্দ্রীয় কোষাগারকে বায়তুল মাল বলা হয়। এটি কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাণ্ডার নয় বরং সমগ্র উম্মাহর আমানত।
বায়তুল মালের শরিয়া ভিত্তি
যদিও কুরআনে ‘বায়তুল মাল’ শব্দটি সরাসরি নেই, তবে এর ধারণা ও কার্যক্রম কুরআন–সুন্নাহ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাআলা বলেন—
كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ
‘যাতে সম্পদ শুধু তোমাদের ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না হয়।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ৭)
এই আয়াত ইসলামি অর্থনীতির মূলনীতি নির্ধারণ করে, যার বাস্তব প্রয়োগ হলো বায়তুল মাল।
রাসুলুল্লাহ (সা.) রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং একে গুলুল (খেয়ানত) বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন—
مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَرَزَقْنَاهُ رِزْقًا فَمَا أَخَذَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ غُلُولٌ
‘যাকে আমরা কোনো দায়িত্বে নিয়োজিত করি, সে যদি এর বাইরে কিছু গ্রহণ করে, তবে তা হবে খেয়ানত।’ (আবু দাউদ ২৯৩৩)
ইসলামি অর্থনীতিতে বায়তুল মালের প্রধান উৎস
ইসলামি রাষ্ট্রে বায়তুল মাল গঠিত হয় একাধিক বৈধ উৎস থেকে—
১. জাকাত (الزكاة)
ফরজ ইবাদত ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রধান উৎস
নির্দিষ্ট ৮টি খাতে ব্যয় হয়
২. খুমস (الخُمس)
যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কল্যাণে ব্যয়
৩. জিযিয়া (الجزية)
অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা কর
৪. খারাজ (الخراج)
কৃষিজ ভূমির ওপর আরোপিত কর
৫. ফাই (الفي)
যুদ্ধ ছাড়াই প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ
৬. উশর (العُشْر)
কৃষিপণ্যের ওপর নির্ধারিত অংশ
৭. হাদিয়া
দান ও উপহার
৮. রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জরিমানা
খনিজ, বন, খাল-বিল, অনাথ সম্পদ ইত্যাদি









