সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ও রমজান ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে শক্তিশালী সেই পুরনো সিন্ডিকেট। ১৫ দিন আগেই তারা কারসাজি করে রোজার পণ্য ছোলা থকে শুরু করে ডাল, পেঁয়াজ, আদা-রসুনসহ সব পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চীন থেকে আমদানি করা আদার দাম।
সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদা ১০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা। এ ছাড়া কেজিতে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে গরুর মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫০ টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে করোনা দুর্যোগের সময়ই আসছে রমজান। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দাম সহনীয় করতে হবে। এখনই লাগাম টানা না-গেলে, ভোক্তারা দিশেহারা হয়ে পড়বেন।
সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক সংস্থার বাজার তদারকি করা ছাড়াও পণ্যের দাম ঠিক রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পক্ষ থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে ৩৫০টি ট্রাকে করে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি চালু আছে। তারপরও বাজারে অসাধুরা সুযোগ বুঝে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে মুদি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮০-৯০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা। অ্যাঙ্কর ডাল বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫-৪০ টাকা।
মুগ ডাল বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০-১৩০ টাকা। এ ছাড়া বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০-৩৫ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৭০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৫০-১৬০ টাকা।
চীন থেকে আমদানি করা আদা বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা কেজি, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪০-১৫০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৮০-৬০০ টাকা।
রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা জাকির হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘর থেকে খুব কম বের হচ্ছি। এক সপ্তাহ পর বাজারে এলাম। এসেই দেখি একাধিক পণ্যের দাম বাড়তি। যা প্রতিদিন ব্যবহার হলেও বিশেষ করে রমজানে বেশি ব্যবহৃত হয়।
তিনি বলেন, রমজানের আগেই বিক্রেতারা কারসাজি করতে শুরু করেছে। প্রতিবছর তারা এই কাজটি করে। এবারও শুরু হয়েছে। তবে তাদের বোঝা উচিত ছিল যে, এখন দেশের অবস্থা ভালো নেই। করোনার কারণে সবাই বিপদে আছে। তাই এ সময় দাম না বাড়িয়ে ন্যায্য দামে বিক্রি করা উচিত।
সুযোগ বুঝে তারা অতি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বাজার মনিটরিং বাড়ানোর বিকল্প নেই। সঙ্গে এই অসাধুদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মুদি বিক্রেতা লিয়াকদ আলী বলেন, রমজান ঘিরে আড়তদাররা সিন্ডিকেট করেছে।
এই করোনা পরিস্থিতিতেও তারা কারসাজি শুরু করেছে। তারা সব এক হয়ে রমজানে অতি ব্যবহৃত পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে তারা ছোলা থেকে শুরু করে সব ধরনের ডাল, পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। আর বেশি দামে এনে আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. শামীম বলেন, আড়তে মাল আনতে পারছি না। যা ছিল তা বিক্রি শেষ। পরিবহন সংকট কেটে গেলে, মাল এলে দাম কমে যাবে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রতিবছর রমজান এলেই একশ্রেণির অসাধু অতি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটছে না। তিনি বলেন, দেশে করোনা দুর্যোগের সময়ই আসছে রমজান।
তাই অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দাম ভোক্তা সহনীয় করতে হবে। আর দাম বাড়ার এই প্রবণতায় এখন থেকেই লাগাম টানা না-গেলে ভোক্তারা আরও দিশেহারা হয়ে পড়বেন। জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে।
এ সময় কোনো অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। রমজান ঘিরে কেউ যদি অসাধু পন্থায় পণ্যের দাম বাড়ায়, তাহলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।









