সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَ لَهٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ وَ مَنۡ عِنۡدَهٗ لَا یَسۡتَكۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِهٖ وَ لَا یَسۡتَحۡسِرُوۡنَ ﴿ۚ۱۹﴾ یُسَبِّحُوۡنَ الَّیۡلَ وَ النَّهَارَ لَا یَفۡتُرُوۡنَ

সরল অনুবাদ :
আর আসমান-জমিনে যারা আছে তারা সবাই তাঁর অধীন, আর তাঁর কাছে যারা আছে তারা অহংকারবশতঃ তাঁর ইবাদাত থেকে বিমুখ হয় না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না। তারা দিন-রাত তাঁর তাসবিহ পাঠ করে, তারা শিথিলতা করে না। (সূরা আম্বিয়া : ১৯-২০)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
আরবের মুশরিকরা ফেরেশতাদের আল্লাহর সন্তান সাব্যস্ত করতে চাইতো এবং তারা আল্লাহর প্রভুত্বের কতৃত্বে শামিল মনে করতো। এভাবে তারা ফেরেশতাদের প্রভু সাব্যস্ত করত।
তাই আয়াতে তাদের সেসব ভ্রান্ত ধারণা-বিশ্বাষকে খন্ডন করা হচ্ছে। (কুরতুবি)
ফেরেশতারা এবং আসমান-জমিনে যারা আছে সবাই আল্লাহর অধীনস্থ, সুতরাং তোমরা তো তোমাদের কোনো অধীনস্তকে (দাস-দাসিকে) নিজের পুত্র কিংবা নিজের স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নও, তাহলে মহান আল্লাহ কীভাবে তাঁর অধীনস্থ কাউকে পুত্র বা স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে পারেন? অতএব, ফেরেশতারা হলেন আল্লাহর দাস বা বান্দা। আল্লাহ তাদের নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। এভাবে আল্লাহ তাদের সম্মানিত করতে চান।
(তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
ফেরেশতারা রাত-দিন তসবিহ পাঠ করে এবং কোন সময় অলসতা করেন না। আমাদের নিঃশ্বাস নিতে যেমন কোনো কিছু বাধা হয় না, তেমনি তাদের তাসবিহ পাঠ করতে কোনো কিছু বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। (ইবন কাসির, তাফসিরে জাকারিয়া)
শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে—সবই তাঁর অধীন।
আমরা সবাই তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন।
২. ফেরেশতারা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত হওয়া সত্বেও তাঁরা কখনো অহংকার করে না। তাই মানুষেরও অহংকার করা কখনো কাম্য নয়।
৩. ফেরেশতারা ইবাদত করতে করতে ক্লান্ত হয় না। তাই আমরা যতটুকুই ইবাদত করি না কেন সেটুকুতে অলসতা না করে নিয়মিত করার চেষ্টা করা উচিত।
৪. সর্বদা তাসবিহ করা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের গুণ। তাই একজন মুমিন মাত্র আমাদের সবার এ গুণ থাকা জরুরি।









