সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ারে অবস্থিত আতিয়া মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও দর্শনীয় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। ১৬০৮ সালে নির্মিত এই মসজিদটি তার চমৎকার কারুকাজ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত।
নামের ইতিহাস
‘আতিয়া’ শব্দটি আরবি ‘আতা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ দান করা। কথিত আছে, ইসলাম প্রচারের খরচ চালানোর জন্য তৎকালীন শাসক এই এলাকাটি ওয়াকফ বা দান করেছিলেন, সেই থেকেই এলাকার নাম হয় আতিয়া।

বাবা আদম কাশ্মিরি নামে এক মহান সাধকের পরামর্শে তার মুরিদ সাঈদ খান পন্নী এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।
মসজিদের গঠন ও সৌন্দর্য
মসজিদটি খুব বড় না হলেও এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত মজবুত। এর দেয়ালগুলো প্রায় সাড়ে ৭ ফুট পুরু। মসজিদের মূল অংশে একটি বিশাল বড় গম্বুজ রয়েছে এবং সামনের বারান্দায় তিনটি ছোট গম্বুজ আছে।
মসজিদের বাইরের দেয়ালে ইট ও পোড়ামাটির চমৎকার সব কারুকাজ রয়েছে। ফুল, লতা ও জ্যামিতিক নকশায় ঘেরা এই দেয়ালগুলো বাংলার লোকজ শিল্পের পরিচয় দেয়। মসজিদের ছাদের কার্নিশগুলো বাংলার চিরাচরিত ছনের ঘরের মতো বাঁকানো, যা একে অন্য সব মসজিদ থেকে আলাদা করেছে। মসজিদের চার কোণে চারটি কারুকাজ করা মিনার আছে এবং ভেতরে নামাজের জন্য সুন্দর মেহরাব রয়েছে।
সংস্কার ও বর্তমান অবস্থা
সময়ের সাথে সাথে মসজিদটি কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। এক সময় বাংলাদেশের ১০ টাকার নোটে এই মসজিদের ছবি ছিল, যা এর গুরুত্বের প্রমাণ দেয়।
কিভাবে যাবেন?
ঢাকা বা যেকোনো জায়গা থেকে প্রথমে টাঙ্গাইল যেতে হবে। টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশায় পাথরাইল বটতলা হয়ে খুব সহজেই আতিয়া মসজিদে যাওয়া যায়।









