জাতীয়

‘পুলিশের হাত থেকে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত সরানোর চিন্তা’

নিউজ ডেস্ক২৯ ডিসেম্বর ২০২৪৭ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

পুলিশের হাত থেকে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত সরানোর চিন্তা – আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ফৌজদারি মামলা তদন্তে আলাদা তদন্ত সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, পুলিশের বদলে মামলার তদন্ত করবেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা। তদন্তকাজ তদারক করবেন সংশ্লিষ্ট অ্যাটর্নি বা প্রসিকিউটর।

কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, তদন্ত সংস্থায় নিয়োজিত জনবল পুলিশ বাহিনী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে।

তাদের নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলি, নিয়ন্ত্রণ, বাজেট, অবকাঠামো ও আনুষঙ্গিক বিষয় একটি স্বতন্ত্র সংগঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোভুক্ত হবে। পুলিশ বিভাগ ও তদন্ত সংস্থার কাজের সুনির্দিষ্ট বিভাজন থাকবে।

সংস্কার কমিশনের সূত্র বলছে, তদন্তের ক্ষমতা পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে পৃথক তদন্ত সংস্থাকে দিলে তদন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

এতে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমবে, প্রকৃত আসামিদের সাজা হবে, নির্দোষ মানুষ ফাঁসবে না এবং তদন্তে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত হবে।

সাদা পাউডার ও মৃত কুকুর নিয়ে প্রশ্ন — প্রথম আলোর প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম এটি। সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহজনক বেশ কিছু বিষয় সামনে এসেছে। তার মধ্যে কুকুরের মরদেহ ও সাদা পাউডার।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ নম্বর ভবনের ষষ্ঠ থেকে নবম তলায় পাওয়া গেছে সাদা পাউডার। করিডরের মধ্যে কীভাবে তা এলো, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি কি দাহ্য নাকি চুন (ক্যালসিয়াম অক্সাইড), তা খতিয়ে দেখতে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

আজ রোববার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া, মারা যাওয়া কুকুরটি কি আগুন লাগার আগে সেখানে ছিল, নাকি পরে উঠেছে? এ বিষয়ে জানতে চান তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্য।

এই কুকুরটি কি সচিবালয়ে পালিত, নাকি আগে থেকে ছিল, তা-ও জানতে চেয়েছেন।

এদিকে, আগুন লাগার কারণ ও উৎস অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠিত আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গত দুইদিনই বসেছে। তারা কেউ-ই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি।

দ্য ডেইলি স্টারের অন্যতম প্রধান শিরোনাম—  Students against discrimination: ‘Proclamation of July revolution’ set for Dec 31। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে, তা বলা হয়েছে এই খবরে।

এদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। ঘোষণাপত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বা জনআকাঙ্ক্ষাকে দালিলিক রূপ দেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাদের ফেসবুকে পোস্টে বিষয়টি জানান।

ঘোষণাপত্রে অতীতের নেতৃত্ব ও আন্দোলনের ব্যর্থতার বিষয়ে ব্যাখ্যা থাকতে পারে বলা হচ্ছে। এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনাও থাকবে।

মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকবেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনরা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

স্বাধীন মতপ্রকাশ ও কণ্ঠরোধের শঙ্কা— সমকালের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সচিবালয়ে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার।

বাতিল করা হয়েছে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড। সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ‘হটকারী’ আখ্যা দিয়েছেন।

যদিও সরকার বলছে, এ সিদ্ধান্ত সাময়িক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রতিদিন অস্থায়ী পাস ইস্যু করবে।

সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ভাষ্য, সরকারের এমন অবস্থান স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অতীতের সরকারগুলো আইনকানুনের মাধ্যমে যেভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করত, অন্তর্বর্তী সরকারও সে পথে এগোচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা এ-ও বলেছেন, সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু করে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদপ্তর।

কিন্তু নিয়মের বাইরে গিয়ে কার্ড বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তারা তথ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা পর্যন্ত করেনি।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত নভেম্বরে তিন দফায় ১৬৭ সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করে। নতুন করে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনায় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

‘ভিআইপি’ বন্দীদের গেটে সিসি ক্যামেরা— নয়া দিগন্তের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের যেসব প্রভাবশালী উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, নেতাকর্মী ধরা পড়ে ইতোমধ্যে কারাগারে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে কারা কর্তৃপক্ষ।

ডিভিশনপ্রাপ্ত ভিআইপি বন্দীদের প্রত্যেকের গেটের সামনে এবং বারান্দায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।

এমনকি তাদের আসা-যাওয়ার সময় আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং লাগেজ স্ক্যানার দিয়েও তল্লাশি করা হচ্ছে।

কারাগার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দীদের তারা নিয়মকানুনের মধ্যে রেখেছেন। কাউকে বাড়তি সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

চারদিকে রটেছিল— ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কারাগার থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন তারই প্রভাবশালী উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

এ খবরের সত্যতা জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এটা ছিল একদম ভুয়া খবর। এসবের কোনো ভিত্তি নেই।

মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম— ‘২৫ সালের মধ্যেই জুলাই হত্যার বিচার’।

২০২৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার শেষ করা হবে। বিচার সম্পন্ন করে আগামী বছর বিজয় উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

গতকাল শনিবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ নিয়ে দুই দিনব্যাপী সংলাপের দ্বিতীয় দিনে ‘গুম-খুন থেকে জুলাই গণহত্যা: বিচারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এ কথা জানান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামও এই অনুষ্ঠানে এক বছরের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার কথা বলেছেন।

তাজুল ইসলাম জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে সাধারণত টপ কমান্ডারদের বিচার করা হয়। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার প্রধান নিউক্লিয়াস ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার নিচের দিকে কয়েকজন ছিলেন, তাদের বিচারকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

বণিক বার্তার আজকের প্রধান শিরোনাম— ‘আস্তে আস্তে আবারো সক্রিয় হচ্ছে পূর্বের সুবিধাভোগীরা’।

এতে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে আধিপত্য বিস্তারকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে বেশ মরিয়া। এজন্য তারা আগের মতোই বড় অংকের ঘুস লেনদেনে যুক্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা ও দুর্নীতিবাজ আমলাদের ঘুস দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে। যেটি কি না গত দেড় দশকে দেশের অবকাঠামো নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি কাজ পাওয়া কোম্পানিগুলোর একটি। এখনও তাদের প্রভাব কমেনি।

গত ৪ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের পূর্তকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। ৪২৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পেরও কাজ পেয়েছে তমা কনস্ট্রাকশন।

কেবল কোম্পানিটি নয়, হাসিনা সরকারের আমলে একচেটিয়া কাজ পাওয়া আরও কোম্পানির প্রভাবও অক্ষুণ্ন রয়েছে।

চ্যালেঞ্জ সম্পদের তথ্য ঘাটতি— যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্বারস্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চলছে অভ্যন্তরীণ তদন্তও। তবে সম্পদ ফেরানোয় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাচারকারীদের সম্পদের তথ্যের ঘাটতি।

অর্থ পাচারকারী ব্যক্তি বা কোম্পানির নামে রক্ষিত সম্পদের প্রকৃত তথ্য সরকারের কাছে না থাকায় তা উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

পাচারকৃত সম্পদ ফেরাতে গঠিত টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভা হয় গত ১৯ নভেম্বর। সভার কার্যবিবরণীতে পাচারকৃত সম্পদ ফেরানোর এই চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ রয়েছে।

সভায় উপস্থিত নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, ইলেকট্রনিক ডাটাবেজ না থাকার কারণে অর্থপাচারে জড়িত সন্দেহভাজনদের তথ্য দিতে দেরি হচ্ছে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্যপ্রাপ্তির পর তা সারাদেশের ৫৭০টি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে পাঠানো হয়। অফিসগুলো ম্যানুয়ালি অনুসন্ধান করে তথ্য দেয়।

No end to lynching—ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের প্রধান শিরোনাম এটি। এতে বলা হচ্ছে, গণপিটুনি থামছে না। গত ১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে উল্লেখযোগ্য হারে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সারাদেশে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ২১ জন। পরের মাস সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ জনে। অক্টোবরে অন্তত ১৯ জন এবং নভেম্বরে ১৪ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে গণপিটুনিতে মারা গিয়েছিলেন ৩৩ জন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৫১ জন, ২০২২ সালে ৩৬ জন, ২০২১ সালে ২৮ জন, ২০২০ সালে ৩৫ জন এবং ২০২১ সালে ৬৫ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সাড়া না পাওয়ায় গণপিটুনির মতো ঘটনা আরও বেড়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা