সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা একটি মৎস্য খামারের পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আলিফ উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের খোশালপুর গ্রামের বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলামের একমাত্র সন্তান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে আলিফ তার বাবার সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরতে যায়।
নিহত শিশুর বাবা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে ছেলেকে নিয়ে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর আমি বাড়িতে চলে আসি, ভেবেছিলাম সে-ও পেছন পেছন চলে আসবে। কিন্তু সে আর ফিরল না। আমার একমাত্র ছেলেকে এভাবে হারাব, কখনো ভাবিনি। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর আমরা সবাই মিলে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। প্রথমে ভুল তথ্যের কারণে অন্য পুকুরে অনেকক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়। পরে পাশের পুকুরে খুঁজে শিশুটিকে পাওয়া যায়। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।’
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘আলিফ খুব চঞ্চল আর সবার আদরের শিশু ছিল। হঠাৎ করে তার এমন মৃত্যু আমরা কেউই মেনে নিতে পারছি না। পরিবারের অবস্থা খুবই করুণ, আমরা সবাই তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’
ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, আলিফ ছিল অত্যন্ত চঞ্চল ও সবার প্রিয় একটি শিশু। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের মাতম চলছে।
মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. মশিউর রহমান জানান, দুপুর ১টার দিকে তারা খবর পান এবং দুপুর ২টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু ভুল তথ্য পাওয়ায় প্রথমে অন্য পুকুরে অনুসন্ধান চালাতে হয়, যার কারণে সময় বেশি লেগেছে। পরে সঠিক স্থানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।’









