জাতীয়

পটিয়ায় তথ্য গোপন করে দলিল নিবন্ধন, অভিযানে দুদক

নিউজ ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

চট্টগ্রামের পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধনের সময় চারতলা ভবনের তথ্য গোপন করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান চালিয়েছে।

অভিযানে সংগৃহীত নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে কম মূল্যে দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ পায় কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন।

প্রাথমিক পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে চারতলা ভবনের তথ্য গোপন করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
অভিযোগ, দলিল নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে নির্মিত চারতলা ভবনের তথ্য গোপন করে সম্পত্তির মূল্য কম দেখানো হয়েছিল কি না এবং এর মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কি না। এ ক্ষেত্রে দলিলের বিবরণ, সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা, মূল্য নির্ধারণের তথ্য এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রাথমিক পর্যেবক্ষণে অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা, সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে। এরপর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা, দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং সরকারি রাজস্বের ক্ষতিসাধনের বিষয়টি উঠে আসতে পারে। পরবর্তী সময়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দুদকের বিশেষ টিম একটা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাবরেজিস্টার কার্যালয়ে অভিযানে এসেছিলেন রবিবার।

২০১৮ সালের দলিল বাবার বিরুদ্ধে ছেলের দায়ের করা একটা মামলা নিয়ে। ঐ দলিলের বিষয়ে তারা আমাদের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।
দুদক সজেকা, চট্টগ্রাম-২-এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে কমিশনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।