জাতীয়

নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার

নিউজ ডেস্ক১৭ নভেম্বর ২০২৩৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই শুরু হয়েছে ‘নির্বাচন-পূর্ব সময়’। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে ফল নিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত এই ‘নির্বাচন-পূর্ব সময়’ বহাল থাকবে। এই সময়ে বিদ্যমান সরকারই রুটিন দায়িত্ব পালন করে যাবে।

সংবিধান কিংবা আইনে স্পষ্ট কিছু না থাকলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চর্চা অনুযায়ী তফসিলের পর পূর্ববর্তী সরকারই বহাল থাবে, যা নির্বাচনকালীন বা অন্তর্র্বতীকালীন সরকার হিসেবে বিবেচিত হয়।

তফসিল ঘোষণার পর বর্তমান সরকার শুধু নির্বাচনকালীন রুটিন ওয়ার্ক বা স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাবে। এ সময়ে সরকার কোনো নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেবে না বা নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। যদিও এর আগেরবারের নির্বাচনকালীন সরকারে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সবশেষ ২০১৮ সালেও দুজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ছাড়া বাকি সবার স্থান ছিল নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায়।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এবারও মন্ত্রিসভায় থাকা তিনজন টেকনোক্র্যাট (সংসদ সদস্য নন) মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় নাও থাকতে পারেন। এছাড়া সরকারের যেসব মন্ত্রী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন, তাদের সুযোগ-সুবিধা কমবে। নির্বাচনী প্রচার কাজে তারা সরকারি প্রটোকল পাবেন না।

গত ৩১ অক্টোবর গণভবনে ব্রাসেলস সফর নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বাদশ সংসদের ভোটের আগে নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে তা জানান। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও কানাডার মতো সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে যেভাবে নির্বাচনকালীন সরকার থাকে, সেভাবে চলবে। অর্থাৎ সে সময় আমরা যারা থাকব, আমরাই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে আমাদের রুটিন ওয়ার্ক পালন করব, যেন সরকার অচল হয়ে না যায়, সেটা আমরা করব, সেভাবেই চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আরপিও অনুযায়ী যখন নির্বাচনের সময় ঘোষণা হবে, মনোনয়নপত্র দাখিল হবে, তখন থেকে আর সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা মন্ত্রীরা ব্যবহার করতে পারবে না, পতাকা বা কোনো সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে না। তখন একজন প্রার্থী হিসেবেই তাদের ভোট চাইতে হবে।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা ছোট করা হলেও এবার তেমন পরিকল্পনা নেই বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৪-তে আমি কিছু মন্ত্রী অন্যান্য দল থেকে নিয়োগ করেছিলাম। এরপর ২০১৮-তে সে পদ্ধতি করিনি, যেটা অন্যান্য দেশে হয়- এবারও সেভাবে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যেহেতু বুধবার তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তাই তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী কাজকর্ম নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে করবে। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী কাজে যেসব সরকারি বিভাগ, সংস্থা বা অফিস তাদের প্রয়োজন হবে এবং নির্বাচন প্রভাবিত হবে না সেসব কাজ সরকার করবে। এ সরকার রুটিন কাজগুলো করে যাবে।

উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৫(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন যে কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো দায়িত্ব পালনে বা সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে। ৪৪(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার এবং তাদের অধস্তন কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া বদলি করা যাবে না। এছাড়া নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনবোধে যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলির ব্যবস্থা নিতে পারবে। ‘নির্বাচন কমিশন এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ প্রয়োগ করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে তৎকালীন বিএনপি সরকার স্থায়ীভাবে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। পরে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। এরপর ২০১৪ সালে দশম ও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। বিদ্যমান সরকারই এ দুটি নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীসহ ২৯ সদস্যের নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এর মধ্যে ২১ জন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সাতজন। ওই মন্ত্রিসভায় মহাজোট সরকারের ১৬ মন্ত্রী ও ১৪ জন প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়েন। নিয়োগ দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর আরও দুই উপদেষ্টা।

 

 

ট্যাগ: