ধর্ম

দ্বিনি আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের শর্ত

নিউজ ডেস্ক১৫ জানুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

একজন মুমিন নারীর প্রধান কর্মক্ষেত্র তার ঘর। সে চেষ্টা করবে ঘরে থেকেই দ্বিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করতে। এরপরও কখনো কখনো দ্বিনি আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঘরের বাইরের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নারী দ্বিনি আন্দোলনের কাজ ঘরে করুক বা বাইরে—এ জন্য তাকে নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

তা হলো—
১. নিয়ত বিশুদ্ধ করা : একজন মুমিন নারী বা পুরুষের সব কর্মকাণ্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাই দ্বিনি কাজে অংশগ্রহণের আগেও নারী কর্মী তার নিয়ত পরিশুদ্ধ করে নেবে। এমনটিই মহান আল্লাহর নির্দেশ। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ জগত্গুলোর প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে।

তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই নিয়তের ওপর সব আমলের ফলাফল নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১)

২. স্বামী বা অভিভাবকের সম্মতি থাকা : নারীদের দ্বিনি কাজে অংশগ্রহণের অন্যতম শর্ত হলো তার স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি থাকা। স্বামী ও অভিভাবকের দ্বিনি বুঝ কম থাকলে তাদের বুঝিয়ে রাজি করানো, তাদের অবাধ্য না হওয়া।

কেননা নারীর ওপর পুরুষের অভিভাবকত্ব অনিবার্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পুরুষ নারীর কর্তা। কেননা আল্লাহ তাদের এককে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; আর এ জন্য যে পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে।’
(সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৪)

হাদিসে এসেছে, খায়বার যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছয়জন নারী অভিযানে বের হয়েছিল। তিনি বিষয়টি জেনে অসন্তুষ্টির সঙ্গে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কার সঙ্গে এবং কার অনুমতিতে তোমরা বের হয়েছ?’ তখন নারী সাহাবিরা সন্তোষজনক উত্তর দিলে তিনি তাদের অভিযানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৭২৯)

৩. পূর্ণ পর্দা রক্ষা করা : নারীর জন্য শরিয়ত পর্দা ফরজ করেছে। তাই পর্দার লঙ্ঘন হয় এমন কোনো কাজে নারীর অংশগ্রহণের অনুমতি নেই, সেটা দ্বিনি আন্দোলন ও সংগ্রাম হলেও। আয়েশা (রা.) তাঁদের হজের সফরের বর্ণনা দিয়ে বলেন, অনেক কাফেলা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তখন আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। তারা আমাদের সামনাসামনি হলে আমাদের নারীরা নিজ মুখাবরণ মাথা থেকে নামিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলত। অতঃপর তারা অতিক্রম করে চলে গেলে আমরা মুখ খুলতাম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৮৩৩)

৪. ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকা : দ্বিনি আন্দোলনে নারীরা তখনই অংশগ্রহণের অনুমতি পাবে, যখন সে নিজে ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার থেকে অন্যরাও নিরাপদ থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে নারীদের দ্বিনি মজলিসে অংশগ্রহণবিষয়ক একটি হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘এই হাদিস থেকে নারীদের উপদেশ প্রদান, পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, ইসলামের বিধি-বিধান শিক্ষা দান এবং তাদের দান-সদকার প্রতি উৎসাহিত করা উত্তম প্রমাণিত হয়। এটা তখনই অনুমোদিত হবে যখন উপদেশদাতা ও উপদেশ গ্রহণকারিণীর ব্যাপারে কোনো ফিতনা বা বিশৃঙ্খলার ভয় থাকবে না।’ (উমদাতুল কারি : ৪/১২৩)

৫. ঘর-পরিবারের দায়িত্বে সমস্যা না হওয়া : নারী প্রধানত তার ঘর ও পরিবারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। সুতরাং ঘর-পরিবারের দায়িত্বে অবহেলা করে কোনো নারী দ্বিনি আন্দোলন বা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবে না। তবে তার পরিবার যদি স্বেচ্ছায় এই ঘাটতিটুকু মেনে নেয় এবং কোরবানি স্বীকার করে তার বিধান ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নারী স্বামীর ঘর ও সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল। সুতরাং সে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৫৪)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনি সংগ্রামে অংশগ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।