সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কার্যে ক্রমেই রোবটের ব্যবহার বাড়ছে। ধীরে ধীরে যন্ত্রের দখলে চলে যাচ্ছে শ্রমবাজার।
কারণ কম্পিউটার-রোবটের দক্ষতার কাছে হেরে যাচ্ছে মানুষ। তাই শ্রমিকের প্রয়োজন ফুরিয়ে যেতে বসেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে শ্রমবাজারের ৫২ ভাগই চলে যাবে রোবটের দখলে।

ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ হয়ে পড়বে বেকার। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এ খবর জানিয়েছে।
জেনেভাভিত্তিক অলাভজনক সংস্থাটি প্রতি বছর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ‘দ্য ফিউচার অব জবস ২০১৮’ বা মানুষের চাকরির ভবিষ্যৎ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যত মানুষ কর্মরত রয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের অর্ধেকই ছাঁটাইয়ের কবলে পড়বেন।
সেই জায়গায় কাজ করবে যন্ত্রচালিত রোবট। এখন পর্যন্ত কল-কারখানার মোট কাজের ২৯ ভাগই করছে রোবট। শুধু তাই নয়, কর্মক্ষেত্রে রোবটের ভূমিকা বৃদ্ধির কারণে আরও প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে মানুষ। সেক্ষেত্রে রোবটের সঙ্গে তাল মেলাতে মানুষকে আরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। নতুবা কাজ হারাবে।
শ্রমিকদের এ বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে তাদের জন্য ‘সেফটি নেট’ তথা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির সিনিয়র নির্বাহী ও পরিচালক পর্যায়ের ব্যক্তিদের ওপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে রোবট বা কম্পিউটারের কর্মদক্ষতায় যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে আগামী তিন বছরের মধ্যে রোবটের জন্য ১৩ কোটি ৩০ লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টি করা হবে। যেখানে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ রোবট কর্মরত রয়েছে।
প্রতিবেদন মতে, রোবট মানুষের যেসব কাজে ভাগ বসাবে তার মধ্যে রয়েছে জটিল হিসাব-নিকাশ, সেবা ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প-পোস্টাল ও দাফতরিক বিভিন্ন কাজ। রোবটের কর্মদক্ষতার তুলনায় যেসব কাজে মানুষের আরও দক্ষ হওয়া চাই সেগুলো হচ্ছে বিক্রয়, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সেবা।
এক্ষেত্রে ই-কমার্স ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজ করার জন্য কম্পিউটারের চেয়ে মানুষের আরও বেশি দক্ষ হতে হবে। বিমান পরিবহন, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের কর্মচারীদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সেই সঙ্গে আজীবন শিক্ষণ ও খাপ খাওয়ানোর যোগ্যতাকে নতুন করে ঝালিয়ে নিতে হবে।









