সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
فَفَهَّمۡنٰهَا سُلَیۡمٰنَ ۚ وَ كُلًّا اٰتَیۡنَا حُكۡمًا وَّ عِلۡمًا ۫ وَّ سَخَّرۡنَا مَعَ دَاوٗدَ الۡجِبَالَ یُسَبِّحۡنَ وَ الطَّیۡرَ ؕ وَ كُنَّا فٰعِلِیۡنَ

সরল অনুবাদ :
‘তারপর আমি এ বিষয়ের ফয়সালা সুলায়মানকে বুঝিয়ে দিলাম। আর আমি তাদের প্রত্যককেইে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান।
এবং আমি পর্বতমালা ও পাখিদের দাউদের অধীন করে দিয়েছিলাম, তারা দাউদের কাছে আমার তাসবিহ পাঠ করত : আর এসব কিছুই আমি করছিলাম।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৭৯)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
এ আয়াতে আল্লাহ ন্যায়বিচারের একটা মূলনীতি বলছেন, তা হলো—দুজন বিচারপতি যদি একটি মোকদ্দমার তথা কোনো একটা বিষয়ের ফায়সালা করেন আর দুজনের ফায়সালা ভিন্ন ভিন্ন হয়, তাহলে যদিও একজনের ফায়সালাই ধর্তব্য হবে এবং মানা হবে তবুও দুজনেই ন্যায়বিচারক হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে শর্ত হচ্ছে, বিচার করার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা উভয়ের মধ্যে থাকতে হবে। তাদের কেউ যেন অজ্ঞতা ও অনভিজ্ঞতাসহকারে বিচারকের আসনে বসে না যান।
(তাফসিরে কুরতুবি)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি বিচারক নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ফায়সালা করার পূর্ণ প্রচেষ্টা করেন, তাহলে সঠিক ফায়সালা করার ক্ষেত্রে তিনি দুটি প্রতিদান পাবেন এবং ভুল ফায়সালা করলে পাবেন একটি প্রতিদান। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৯১৯)
আয়াতে مع শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে পাহাড় ও পাখিদের অনুগত করা হয়েছিল। এজন্য তারাও দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করত।
কোরআনের অন্যত্র আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে পাহাড়সমূহ অনুগত করে দিয়েছিলাম। সকাল-সন্ধ্যা তারা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। আর সমবেত পাখিদেরও (অনুগত করা হয়েছিল)। তারা প্রত্যেকেই ছিল অধিক আল্লাহ অভিমুখী।’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ১৮-১৯)
দাউদ (আ.) যখন জাবুর পাঠ করতেন, তখন পাখিরা শূন্যে উড়ে উড়ে তাঁর সঙ্গে আল্লাহর তসবিহ পাঠ করত।
কারণ তিনি ছিলেন সমধুর কণ্ঠস্বরের অধিকারী। আর তাঁর সঙ্গে পাখিরা ও পর্বতসমূহের তসবিহ পাঠে শরিক হওয়া ছিল একটি মুজেজা।
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে আবু মুসা আশআরি (রা.) ছিলেন অত্যন্ত সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, একবার আবু মূসা আশআরি (রা.) কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তার কণ্ঠ ছিল অসাধারণ সুরেলা। মহানবী (সা.) সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার আওয়াজ শুনে তিনি দাঁড়িয়ে যান এবং অনেকক্ষণ শুনতে থাকেন। তাঁর পড়া শেষ হলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যক্তি দাউদের সুরেলা কণ্ঠের একটা অংশ পেয়েছে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ৩৫৯)
আবু মুসা (রা.) যখন জানতে পারলেন যে, মহানবী (সা.) তাঁর তিলাওয়াত শুনেছেন, তখন তিনি বললেন, আপনি শুনছেন—একথা আমার জানা থাকলে আমি আরো সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করতাম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৭৯৩)
এ থেকে বুঝা যায় যে, কোরআন তেলাওয়াতে সুন্দর সুর ও চিত্তাকর্ষক উচ্চারণ কাম্য, পছন্দনীয় ও প্রশংসনীয়। (তাফসিরে জাকারিয়া, ইবনে কাসির)
এ কথা ঠিক না যে, দাউদ (আ.)-এর তসবিহর আওয়াজ পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হত। কারণ, তাতে কোনো মুজিজা প্রমাণ হয় না। আর যে কেউ আওয়াজ করলেই তো পাহাড়ে প্রতিধ্বনি হয়। তাই এর অর্থ হলো, দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে পাহাড়ও তসবিহ পাঠ করত এবং তা বাস্তব সত্য, এ আয়াত কোনো রূপক অর্থে নয়। পাখির ক্ষেত্রে বিষয়টি তো স্পষ্ট। আয়াতের শেষে আল্লাহ বলছেন, এসব কিছু আমিই করেছি। তাই এতে কারো আশ্চর্য্য হওয়ার অথবা অস্বীকার করার কিছুই নেই। কারণ আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)









