সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
নব্বইয়ের দশকের বলিউড মানেই একদিকে যেমন শাহরুখ-কাজলের রোমান্স কিংবা করণ জোহরের মিষ্টি প্রেমের ছবি, অন্যদিকে তেমনই ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত ডন আবু সালেম বা ছোটা শাকিলদের রক্তচক্ষু। সম্প্রতি বলিউডের সেই অন্ধকার দিনগুলোর গা শিউরে ওঠা কিছু স্মৃতি নতুন করে সামনে এসেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান জানিয়েছেন, তার বাবা প্রখ্যাত পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের কাছে যখন আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে হুমকির ফোন আসত, তখন বাড়ির কর্মীরা বুঝতেই পারেননি বিষয়টি কতটা সিরিয়াস। তারা উল্টো ডনদেরই বাগানে এসে মারপিট করার চ্যালেঞ্জ জানাতেন! কিন্তু যখন জানা যায় আততায়ীরা বাড়ির ঠিকানা এবং অফিস টাইম জেনে ফেলেছে, তখন প্রাণভয়ে রাতারাতি বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল গোটা ধাওয়ান পরিবারকে।

ঘটনাটি ১৯৯৮ সালের, যখন করণ জোহরের প্রথম ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ মুক্তি পেতে চলেছে। করণের মা হিরু জোহর ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে কুখ্যাত ডন আবু সালেমের গলা। ডন সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমার ছেলে লাল টি-শার্ট পরে আছে, আমি ওকে দেখতে পাচ্ছি। শুক্রবার ছবি রিলিজ করলেই ওকে গুলি করব।
’
আতঙ্কে কাঁপতে থাকা করণের পাশে তখন ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শাহরুখ খান। করণ তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, শাহরুখ তাকে ঘর থেকে টেনে বের করে এনে বলেছিলেন, ‘আমি তোর সামনে দাঁড়িয়ে আছি, দেখি কে তোকে গুলি করে! আমি পাঠান, আমার কিছু হবে না আর তোরও কিছু হতে দেব না।’
অনুপমা চোপড়ার বই ‘কিং অব বলিউড’-এ শাহরুখ স্বীকার করেছেন, সেই সময়টা তার কাছে ছিল প্রচণ্ড অবসাদ ও আতঙ্কের। আবু সালেম তাকে ফোন করে বলত, সে শাহরুখের প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে।
শাহরুখের ভাষায়, ‘মনে হতো সারাক্ষণ একটা টেলিস্কোপের নিচে বসে রয়েছি।’
ফারহা খানও স্মৃতিচারণ করেছেন ১৯৯৭ সালের কথা, যখন প্রযোজক মুকেশ দুগ্গলকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করা হয়। গুলশন কুমারের হত্যার পর সেই ঘটনাও বলিউডের মেরুদণ্ড কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
নব্বইয়ের দশকের সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে শাহরুখ খান এখন বলিউডে অ্যাকশনের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন। এবার সেই মাত্রাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চলেছেন তার আসন্ন ছবি ‘কিং’-এ।
জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে এই ছবির অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যাকশন সিকোয়েন্সের শুটিং। এই বিশেষ দৃশ্যের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—১০ জন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত রাশিয়ান ফাইটার, যাদের এই সিকোয়েন্সের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।
মুম্বাইয়ের গোল্ডেন টোবাকো স্টুডিওতে একটি পরিত্যক্ত পুরনো মিলের আদলে বিশাল সেট তৈরি করা হয়েছে। মার্চের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হয়ে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলবে এই হাই-অকটেন সিকোয়েন্সের শুটিং। এতে অ্যাকশন, আবেগ এবং বাস্তবতার এক দুরন্ত মিশেল দেখতে পাবেন দর্শক।









