লাইফ স্টাইল

ডেঙ্গু থেকে ফুসফুসের জটিলতা

নিউজ ডেস্ক২৩ আগস্ট ২০২০৩ মিনিট পড়া

ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী মশা কামড়ানোর দুই থেকে সাত দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়।

সাধারণ উপসর্গ হলো- জ্বরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ বেড়ে যায়। জ্বর ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। বিরামহীন মাথাব্যথা, হাড়, হাড়ের জোড় ও পেশিতে তীব্র ব্যথা, বমি ভাব বা বমি হওয়া, গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, সারা শরীরের ফুসকুড়ি দেখা দেয়া, চোখের পেছনে ব্যথা হওয়া ইত্যাদি।

জ্বর ১০২-এর নিচে থাকলে ৬ ঘণ্টা পর পর প্যারাসিটামল খান, ১০২-এর ওপরে গেলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি দেন। বেশি বেশি ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, ফলের জুস খান।

প্যারাসিটামল ব্যতীত অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ খাবেন না। কারণ ব্যথার মেডিসিন খেলে রক্তক্ষরণ হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। প্যারাসিটামল জ্বর ও শরীর ব্যথায় কার্যকর ওষুধ।

এ সময় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং প্রচুর পরিমাণে তরল গ্রহণ করার মাধ্যমে দ্রুত রোগমুক্ত হওয়া যায়। এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু সচরাচর সেরে যায়। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে।

হেমোরেজিক ফিভারের মধ্যে একটি রক্তপাত নিয়ে আসতে পারে। আরেকটি সরাসরি শকে চলে যেতে পারে। এগুলো অস্থিতিশীল। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুতে রক্তপাত হয়, তবে রোগী মারা যায় না। এর মানে হেমোরেজিক ফিভারের মধ্যে যেগুলো শকে চলে যাচ্ছে, পাশাপাশি এক্সপেনডেট ডেঙ্গু শক সিনড্রোম যেগুলো, সেগুলো হলো অস্থিতিশীল। তারা মারা যেতে পারে। তাদের ঝুঁকি অনেক।

শরীরে ডেঙ্গুর ভাইরাস প্রবেশ করলে কী হয়

সাধারণত দুই থেকে সাত দিন শরীরে এর বিস্তারকাল। রক্তের মনোসাইটকে আক্রমণ করে থাকে, শরীরে আক্রান্ত মনোসাইট ও লিম্ফোসাইটের মধ্যে এক যুদ্ধ চলে।

নিঃসরণ হয় অনেক রকমের কেমিক্যাল মেডিয়েটর ও সাইটোকাইন। তারা কিনা রক্তের উপশিরা সূক্ষ্ম জালিকা শিরাকে ছিদ্রময় করে তুলে। ফলে উপশিরা জালিকা শিরা দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে। পেটে ও অন্যান্য শিরাবহির্ভূত স্থানে এসে জমে। জলীয় অংশ কমাতে রক্ত হয়ে পড়ে ঘন ও শ্লথ।
ডেঙ্গুর এই জীবাণু আবার আক্রমণ করে হাড়ের ভেতরের মজ্জার অনুচক্রিকা (প্লাটিলেট) উৎপাদক ম্যাগাকারিওসাইট সেলগুলোকে। যত বেশি মনোসাইট ও লিম্ফোসাইটের যুদ্ধ, শরীরে তত এন্টিবডি উৎপাদন আর তত ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের প্রকোপ।

ফুসফুসের অভ্যন্তরে বায়ুকুঠুরির মাঝের পর্দা ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় এবং কাশির সঙ্গে রক্ত এসে একই সঙ্গে দুই ফুসফুসের পর্দায় পানি আসার কারণে শ্বাসকষ্ট হয়।

ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের উপসর্গ

শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া। ত্বক শীতল হয়ে যাওয়া। অবিরাম অস্বস্তি, ত্বকের ভেতরের অংশে রক্তক্ষরণের কারণে ত্বকের ওপরের অংশে লাল ছোপ সৃষ্টি হওয়া।

বমি, মল কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড পেটব্যথা ও অনবরত বমি হওয়া, নাক ও দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ ও অবসাদ। এ উপসর্গগুলো চোখে পড়লে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ডেঙ্গুজ্বর হলেই যে হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে তেমন নয়।

ডেঙ্গু একবার হলে যে আরেকবার হবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং দ্বিতীয়বার হলে এর মাত্রা আরও বেশি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, যে ধরনের এডিস মশার কারণে একবার ডেঙ্গু হয়, সেই একই ধরনের ভাইরাস থেকে একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবে না। এডিস মশার বাকি তিন ধরনের ভাইরাস থেকেও ব্যক্তি আবারও আক্রান্ত হতে পারে।

লেখক : বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইবনেসিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসাল্টেশান সেন্টার, লালবাগ, ঢাকা

 

সূত্রঃ যুগান্তর