সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
রংপুর নগরীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে দামের ওঠানামা দেখা গেছে। সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যে পরিবর্তনের প্রভাবে ডিমের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেলেও মুরগির বাজারে মিলেছে কিছুটা স্বস্তি। অন্যদিকে সবজির বাজারে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা—কিছু পণ্যে দাম বেড়েছে, আবার কিছুতে কমেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে নগরীর সিটি বাজার, কামাল কাছনা ও শাপলা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

খুচরা বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি হালিতে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ধাপ বাজারের ডিম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিমের বাজার পুরোপুরি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
খামার থেকে সরবরাহ কম এলে দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে সেই পরিস্থিতিই চলছে।’
এদিকে, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩৮০-৩৯০ টাকা থেকে কমে ৩৪০-৩৫০ টাকায়, পাকিস্তানি হাইব্রিড ৩৫০-৩৬০ টাকা থেকে কমে ৩২০-৩৩০ টাকায় এবং পাকিস্তানি লেয়ার ৩৩০-৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে দেশি মুরগির দাম তুলনামূলক বেশি-৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি যা অপরিবর্তিত রয়েছে।
মুরগি বিক্রেতা বাবুল মিয়া ও আলমগীর হোসেন জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে মুরগির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কিছুটা কমেছে এবং বিক্রিও বেড়েছে। মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর মাংস ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দামে ওঠানামা। ছবি : কালের কণ্ঠ
অন্যদিকে, সবজির বাজারে দেখা গেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ চিত্র। টমেটোর দাম অপরিবর্তিত থাকলেও গাজরের দাম বেড়ে ৫০-৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। একইভাবে সজনে ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০-১০০ টাকা।
বেশ কিছু সবজির দামে স্বস্তি এসেছে। এর মধ্যে ঝিঙে ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকায়, চালকুমড়া ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকায়, পটল ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকায় এবং ঢেঁড়শ ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি, করলা, লাউ ও ধনেপাতার দামেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। কাঁচা মরিচের বাজারেও স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
মসলার বাজার ঘুরে দামের পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশি আদা ১৬০-১৮০ টাকা থেকে কমে ১৫০-১৬০ টাকায় নেমেছে। আমদানি করা আদা ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০-১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ২৫০-২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শাপলা বাজারের সবজি বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন কিছু সবজির মৌসুম, তাই সরবরাহ বেড়েছে। এজন্য দাম কমেছে। তবে যেগুলোর সরবরাহ কম, সেগুলোর দাম বেড়েছে। বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।’
নগরীর বাসিন্দা নুরুজ্জামান জানান, বাজারে গেলে আগের মতো টাকায় বেশি পণ্য কেনা যাচ্ছে না। কিছু জিনিসের দাম কমলেও মোট খরচ কমছে না। ডিমের দাম বাড়ায় সংসারের খরচ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে দামের এই ওঠানামা মূলত সরবরাহ ও চাহিদার স্বাভাবিক প্রভাব। কৃষিপণ্য মৌসুমি হওয়ায় কোনো কোনো সময়ে সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে, আবার সরবরাহ বাড়লে কমে। মুরগির দামে স্বস্তি মিললেও ডিমের দাম বৃদ্ধি ক্রেতাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। সামনে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার আরো স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।









