জাতীয়

ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেনের টিউমার অপসারণ

নিউজ ডেস্ক২৭ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শারীরিক প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেনের পাশে দাঁড়ালেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তার উদ্যোগে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে প্রায় চার কেজি ওজনের টিউমার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বাসিন্দা ইমাম হোসেন। জন্মগতভাবে স্নায়ুর টিউমারজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসহনীয় শারীরিক কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। দিনমজুর বাবার আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম ইমাম হোসেন প্রায় ১৭ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তার চলাচলের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

 

এরই মধ্যে জন্মগত প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা (Plexiform Neurofibroma) রোগের কারণে তার পিঠের টিউমার ক্রমেই বড় হতে থাকে। টিউমারের কারণে গত প্রায় দেড় দশক বছর ধরে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলেন না। শারীরিক অক্ষমতার কারণে উপার্জন করতে না পারায় নিজের দৈনন্দিন খাবারের সংস্থান করাই তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যয়বহুল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমাম হোসেনের দুর্দশার একটি ভিডিও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত চিকিৎসক ও জেডআরএফের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে ইমাম হোসেনের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এরপর অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর নির্দেশনায় ডা. এম আর হাসান ইমাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদের অধীনে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

ইমাম হোসেনের জটিল শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।

বোর্ডে ভাস্কুলার সার্জন, অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের তত্ত্বাবধানে গত ২৫ অক্টোবর প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পিঠ থেকে প্রায় চার কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়।
ইমাম হোসেনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ। এ সময় তিনি রোগীর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এ সময় অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন অতীতেও দলমত ও ধর্মনির্বিশেষে অসহায়, নিরীহ মানুষের কল্যাণে কাজ করে এসেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

ইমাম হোসেনের চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. অভিজিত সরকার, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহীন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ডা. তাজিন আহসান, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফজলে রাব্বি, রেজিস্ট্রার ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার এবং আবাসিক সার্জন ডা. মো. শফিকুল আলম সুমনসহ আরো অনেকে।

দীর্ঘদিনের অসহনীয় শারীরিক কষ্ট, আর্থিক অসচ্ছলতা ও চিকিৎসার অনিশ্চয়তার মধ্যে ইমাম হোসেনের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মানবিক সহযোগিতার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে।