ধর্ম

জ্ঞান অর্জনের সঠিক পদ্ধতি

নিউজ ডেস্ক১১ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَكَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡهِمۡ فَسۡـَٔلُوۡۤا اَهۡلَ الذِّكۡرِ اِنۡ كُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ

সরল অনুবাদ :
৭. আর আমি তোমার পূর্বে পুরুষদেরই পাঠিয়েছিলাম, যাদের নিকট আমি ওহি প্রেরণ করতাম। সুতরাং যদি তোমরা না জান তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস কর। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৭)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
মক্কার মুশরিকরা বলত, ‘এ ব্যক্তি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ’ তখন আল্লাহ তাআলা তাদের এ কথার জবাবে এ আয়াত নাজিল করেন। তারা এ কথা বলে মূলত মহানবী (সা.)-এর মানবিক সত্তাকে তাঁর নবী না হওয়ার বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে পেশ করতো।

আয়াতে জবাব দেয়া হয়েছে যে, পূর্ব যুগের যেসব লোককে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে তোমরা মানো তারা সবাই মানুষ ছিলেন এবং মানুষ থাকা অবস্থায়ই তারা আল্লাহর ওহি লাভ করেছিলেন। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, ‘আর আমি তোমার পূর্বেও জনপদবাসীদের মধ্য থেকে পুরুষদেরই পাঠিয়েছিলাম, যাদের কাছে আমি ওহি পাঠাতাম।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৯)
এ আয়াতে আরেকটা বিষয় স্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ নবুওয়ত ও রিসালাতের জন্য শুধুমাত্র পুরুষদেরই মনোনীত করেছেন। কেননা এতবড় গুরু-দায়িত্ব নেয়ার যোগ্যতা নারীদের দেয়া হয়নি।

নবুওয়তের প্রচার-প্রসারের জন্য যে নিরলস সংগ্রাম দরকার হয় তা নারীরা কখনো করতে পারে না। তাই তাদেরকে তাদের সৃষ্টি উপযোগী দায়িত্বই দেয়া হয়েছে। তাদের দায়িত্বও কম, জবাবদিহীতাও কম। আল্লাহ তাদেরকে গুরু দায়িত্ব না দিয়ে তাদের প্রতি অনেক বড় অনুগ্রহ করেছেন।

(ইবনে কাসির)
আয়াতে أَهْلَ الذِّكْرِ বা ‘জ্ঞানীদের’ বলে তাওরাত ও ইঞ্জীলের যেসব আলেম রাসুল (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তাদের বোঝানো হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, যে ইহুদিরা আজ তোমাদের সাথে গলা মিলিয়ে চলছে এবং তোমাদেরকে ইসলামের বিরোধিতা করার কায়দা কৌশল শেখাচ্ছে তাদের জিজ্ঞেস করো, মুসা ও বনী-ইসরাঈলের অন্যান্য নবীরা কী ছিলেন? মানুষ ছিলেন, না ফেরেশতা ছিলেন? কেননা, তারা সবাই জানে যে পুর্ববর্তী সকল নবী মানুষই ছিলেন। এটা তো মূলত তাদের জন্য রহমতস্বরূপ। কারণ, তাদের মধ্য থেকে পাঠানোর কারণেই তিনি তাদের কাছে বাণী পৌছাতে সক্ষম হয়েছেন। আর মানুষও নবীদের থেকে রিসালাত ও হুকুম আহকাম গ্রহণ করতে পেরেছেন।

(ইবন কাসির)
এ আয়াত থেকে জানা গেল যে, শরীআতের বিধি -বিধান জানে না, এমন মুর্খ ব্যক্তিদের জন্য আলেমদের অনুসরণ করা ওয়াজিব। তারা আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করে তারপর আমল করবে। (তাফসিরে জাকারিয়া, তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

শিক্ষা ও বিধান

১. পূর্ববর্তী নবীরা সবাই মানুষই ছিলেন। তারা আমাদের মতো মানুষ হওয়ায় আমরা তাদের সহজে অনুসরণ করতে পারি।

২. নবীদের কাছে আল্লাহ ওহি পাঠাতেন। তাই সঠিক পথ মানুষের নিজস্ব কোন ইচ্ছাধীন নয়, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।

৩. না জানলে জিজ্ঞাসা করা কোনো অজ্ঞতা বা লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটা প্রশংসনীয়।

৪. সমাজে আলেমদের গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা শরিয়তের বিধিবিধান তারাই সবচেয়ে বেশি জানেন।

৫. অহংকার ত্যাগ করা উচিত। কেননা অনেক সময় মানুষ না জেনেও প্রশ্ন করতে চায় না। তাই সত্য জানার জন্য বিনয়ী হওয়া জরুরি।