জাতীয়

জামিন পেলেন আড়াই বছরের শিশুকে নিয়ে কারাবন্দি সেই মা

নিউজ ডেস্ক১৩ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

লক্ষ্মীপুরে মারধরের মামলায় আড়াই বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে কারাবন্দি ফারহানা আক্তার শিল্পিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত সদরের বিচারক শাহ জামাল মানবিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতের পেশকার দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির কোলে দুধের শিশু ও বাড়িতে আরো দুই শিশু শিক্ষার্থী থাকায় আদালতের বিচারক মানবিক বিবেচনায় তাকে জামিন দিয়েছেন।

আদালত ও আইনজীবী সূত্র জানায়, একটি মারধরের মামলায় শিল্পি গত ১১ মে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এতে শিল্পিকে তার দুধের শিশু সিয়ামকে নিয়ে কারাগারে যেতে হয়।

প্রিজনভ্যানে ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে বসে থাকা ও তার অপর দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তান গিয়ে কারা ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে আসামির আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন তার ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেন। বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নজরে পড়লে এ নিয়ে তথ্যবহুল সংবাদ প্রচার হয়। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

৭ দিন পর জামিন চাওয়ার নিয়ম থাকলেও শিশুসহ মা কারাগারে এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় বুধবার শিল্পিকে জামিন দেন আদালত।

আসামি শিল্পির আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন বলেন, ঘটনার ভিডিওতে স্পষ্ট শিল্পিকে মারধর করতে দেখা যায়। কিন্তু শিল্পির হাতে কোনো রড ছিল না। সে কাউকে আঘাতও করেনি। এ ছাড়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে আঘাতটি সাধারণ ছিল বলে উল্লেখ করেছে চিকিৎসক।

এতে ঘটনাটি জামিনযোগ্য হলেও শিল্পিকে কারাগারে পাঠান আদালত। অবশেষে আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।
শিল্পির ভাই মো. আবু ইউছুফ বলেন, শিল্পি জামিন পেয়েছেন। দুই দিন ধরে তার দুই ছেলে-মেয়ে বাড়িতে কান্নাকাটি করেছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে জেলসুপার রীতেশ চাকমা বলেন, শিল্পি নামের এক আসামির জামিন হয়েছে। গত ১১ মে তিনি আড়াই বছরের শিশু সিয়ামকে নিয়ে কারাগারে আসেন।

এজাহার সূত্র জানায়, মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার মৃত ছিদ্দিক উল্যাহ ভূঁইয়ার ছেলে। তার ওপর হামলার অভিযোগ এনে গত ১৫ এপ্রিল তিনি অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি সদর আদালতে মামলা করেন। এতে প্রতিবেশী শিল্পিসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়।

শিল্পি পৌরসভার সাহাপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। মামলায় উল্লেখ করা হয়, শিল্পি রড দিয়ে বাদীর মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে বাদীর মাথার হাড় ভেঙে মগজ বের হয়ে যায়। অন্যদিকে এজাহারে গুরুতর আঘাত উল্লেখ করা হলেও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে (এমসি) আঘাতের ধরন সিম্পল (সাধারণ) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।