সিল্কসিটিনিউ ডেস্ক:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ১৯৯৫ সালে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরে ২০০১ সালে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এ দাবি আবারও সামনে আসে।
এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে অনেক সময় জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিভিন্ন সরকারের ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত। সবার আগে বাংলাদেশ, জনগণ ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। একুশ বছরের তারুণ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি আরো জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হবে।
তিনি বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি শিক্ষা। উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি অর্জন কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য শিক্ষার্থী তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি হবে গবেষণা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদের জ্ঞান ও মেধা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারেন।
শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু জিপিএ ৫ কিংবা উচ্চশিক্ষার সনদ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতি উন্নত হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা, আগ্রহ ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও যুগোপযোগী করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভবিষ্যতের শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করতে শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের বিকাশ ঘটাতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জ্ঞানভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের বাংলাদেশের জন্য উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনসহ অন্য অতিথিরা।









