অর্থ ও বাণিজ্য

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে আরো বড় জাহাজ

নিউজ ডেস্ক৯ মার্চ ২০২২২ মিনিট পড়া

সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটিতে আরো বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি যে হারে এগোচ্ছে, সে অনুযায়ী বন্দরে জেটি বাড়ছে না। আর জেটি-টার্মিনাল বাড়ানোর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। এই অবস্থায় বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি সামালের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের ৯ মিটার গভীরতার জাহাজে এক হাজার ৬০০ একক কনটেইনার; সাড়ে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজে দুই হাজার ২০০ একক; ১০ মিটার গভীরতার জাহাজে দুই হাজার ৬০০ একক কনটেইনার পরিবহনের সুযোগ আছে। সাড়ে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়লে বছরে আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ একক বাড়তি কনটেইনার ওঠানামা সম্ভব হবে।

kalerkantho

চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে এখন সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট বা গভীরতা এবং ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। এর চেয়ে এক মিটার বাড়তি গভীরতা অর্থাৎ সাড়ে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সক্ষমতা যাচাই করে দেখছে বন্দর। প্রতিষ্ঠানটির রিপোর্টে ইতিবাচক সাড়া পেলে এবং প্রকল্প ব্যয় বাস্তবায়নযোগ্য হলেই সেটি কার্যকর হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘আমরা ১০ মিটার গভীরতার পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়াতে চাই। এ জন্য একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান জরিপ চালাচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিলেই আমরা উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করব। ’

তিনি আরো বলেন, ‘জেটিতে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ আনতে যে বাধা ছিল, সেগুলো আমরা এরই মধ্যে উত্তরণে কাজ শুরু করেছি। কর্ণফুলী নদীর গুপ্তবাঁক কিছুটা সহজ করা হয়েছে। আউটার বারে নিয়মিত নদী খনন চলছে। এখন বড় আকারের জাহাজ জেটিতে আনতে পাইলটদের প্রস্তুত করতে হবে। ’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতেই প্রথমবার ১৯০ মিটার দীর্ঘ এবং সাড়ে ৯ মিটার গভীরতা বা ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো শুরু হয়। এর আগে এত বড় জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর সুযোগ ছিল না। প্রায় সাত বছর পর এখন ২০২২ সালে এসে আরো বড় আকারের জাহাজ ভেড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটি নির্ভর করছে জরিপে এই কাজ করতে কত টাকা ব্যয় হয় তার ওপর। বন্দরের বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠান পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থার পরিচালক রফিকুল আনোয়ার বাবু বলেন,  জিসিবির সব জেটিতে ১৯০ মিটার এবং সাড়ে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়াতে গেলে ড্রাফট নিশ্চিত করতে হবে। এতে পরিবহন খরচ ২০ শতাংশ কমবে এবং ভোগান্তিও কমবে।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ