সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় কুমিল্লা থেকে নাছির উদ্দিন মিঠু (২২) নামে একজনকে ধরে নিয়ে গেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দুপুরে জেলার মুরাদনগর থানায় মিঠু স্বেচ্ছায় হাজির হয়। পরে বিকেলে মুরাদনগর থানা পুলিশের দেয়া খবরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে যায়। মিঠু উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের শরমাকান্দা গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে। এবং বিএনপি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পরিবারের গাড়িচালক।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন এবং মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ মাঝি মিঠুকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িত এক সন্দেহভাজনের সাথে মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে মিঠুকে শনাক্ত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায় ওই সন্দেহভাজনের সাথে মিঠুর ফোনে যোগাযোগ ছিল। সে সূত্র ধরেই কয়েকদিন ধরে গোয়েন্দা পুলিশ উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের শরমাকান্দা গ্রামে খোঁজ খবর নিতে থাকে। গত তিন দিন আগে গোয়েন্দা পুলিশ বিষয়টি মিঠুর পরিবারকে অবহিত করে।
মুরাদনগর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, গত রোববার মিঠু বাড়ি এলে পরিবারের লোকজন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সোমবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় হাজির হোন মিঠু। পরে খবর দিলে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ মিঠুর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে থানা থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে যায়। এসময় সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল সিকদার উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঁইয়া, মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ মাঝি বলেন, ডিএমপির ডিবি সদস্যদের একটি দল গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিঠুকে তার অভিভাবক ও আমাদের উপস্থিতিতে আটক করে ঢাকায় নিয়ে গেছে।
আটক মিঠু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার দুলুর পরিবারের গাড়িচালক বলেও জানায় পুলিশ।
একটি সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই গুলশান হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলার আগে গুলশান এলাকায় যুবক মিঠু একটি সাদা প্রাইভেটকার নিয়ে ঘুরাঘুরি করছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে এমন সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে।
সূত্র জানায়, ভিডিওতে ছবি দেখে যে তিন জন পুরুষ ও একজন নারীকে শনাক্ত করা হয়, মিঠু তাদেরই একজন। সন্দেজভাজন ওই নারীকে নরসিংদী আটক করা হয়েছে। তবে পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, রুমা আক্তার নামে ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন।
সূত্র: বাংলামেইল









