লাইফ স্টাইল

খোসপাঁচড়া থেকে দূরে থাকুন

নিউজ ডেস্ক২০ জানুয়ারি ২০২০২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা সারকপটিস স্ক্যাবি নামক ক্ষুদ্র মাইটের মাধ্যমে হয়ে থাকে। রোগটি যে কোনো সময় দেখা দিলেও এ সময় সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। মাইটগুলো উকুনের মতো ছোট্ট জীবাণু। এটি কোনো যৌনরোগ নয়।

যেভাবে ছড়ায় : ছোঁয়াচে বলে খুব সহজে পরিবারের অন্যরা আক্রান্ত হয়। একই বিছানায় শোয়া বা ঘনিষ্ঠ সহচার্য, একই কাপড়-চোপড় ব্যবহারে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে অনেকের মধ্যে। কারণ মাইট শরীরের বাইরে অর্থাৎ কাপড়-চোপড়, কাঁথা-বালিশ, আসবাবপত্রে কমপক্ষে ২-৩ দিন বেঁচে থাকতে পারে।

রোগ চেনার উপায় : ত্বকের ওপর অনেকটা সোজা বা ‘ঝ’ আকারের কালো সুতার মতো ছোট ছোট রেখা দেখতে পাওয়া যায়, এটার নাম বারো। এ রেখার শেষভাগে ছোট দানা অথবা পানিযুক্ত ছোট ছোট দানা থাকে। এগুলোই হলো মাইটের আবাসস্থল। এখানেই জীবাণুগুলো ডিম দিয়ে থাকে।

উপসর্গ : এ রোগের বিশেষ এবং প্রধান উপসর্গ হলো, সারা শরীর ক্রমে চুলকানো। চুলকানি সবচেয়ে বেশি হয় রাতে। এরও কারণ রয়েছে। রাতে বিছানার গরমে মাইটগুলো চামড়ার নিচে চলাচল করতে শুরু করে। ফলে রাতে বেশি চুলকানি অনুভূত হয়। চুলকানোর ফলে নখের আঁচড়ে চামড়া উঠে যায়। এ জন্য শরীরে আঁচড়ের দাগও পাওয়া যায়।

আক্রান্ত স্থান : হাতের আঙুলের ফাঁক, কব্জি, কনুই ও কনুইয়ের সামনের অংশ, স্তনের বোঁটা, নাভি, তলপেট, যৌনাঙ্গের আশপাশ এবং শরীরের ভাঁজ আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া পুরুষের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গের অগ্রভাগ ও শিশুর ক্ষেত্রে হাত-পায়ের তলা, মাথা, ঘাড় ও গালে রোগটি দেখা দিয়ে থাকে।

জটিলতা : সময়মতো চিকিৎসা না করালে চামড়া ও কিডনিতে সমস্যা হয়। যেমনÑ

অ্যাকজিমাটাইজেশন : চামড়া কালো ও পুরু হয়। ইমপেটিগো দানাগুলো বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ক্ষত হয়ে যায়।

ফোড়া : ত্বকে অনেক দিন ধরে স্ট্রেপ্টোকক্কাল ইনফেকশনের কারণে কিডনির মারাত্মক জটিলতা, যেমনÑ একুইট গ্লোমারিউলো নেফ্রাইটিস হয়।

প্রতিকার : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ পরিহার করা। আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করতে হবে। পরিবারের অন্যান্য সদস্য, যারা একই বিছানা, তোয়ালে ও কাপড়-চোপড় ব্যবহার করে, ঘনিষ্ঠ সহচার্যে থাকে, তাদের রোগের উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, চিকিৎসা করতে হবে।

চিকিৎসা : খোসপাঁচড়া নিরাময়ে নির্দিষ্ট ওষুধ আছে, যা নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যবহার করলে এ রোগ থেকে সহজেই নিজেকে রক্ষা করা যায়। ওষুধগুলো হচ্ছেÑ ২৫ শতাংশ বেনজাইল বেনজয়েট, পারমিথ্রিন, টেটমোসল। ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি কাপড়-চোপড় সিদ্ধ করে কাচতে হবে এবং বিছানো তোষক রোদে দিতে হবে।