সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
শরিয়ত ও দ্বিন ইসলামের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ শুধু ওহি ও কিতাব পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি, অধিকন্তু এই ওহি ও কিতাবের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হিসেবে মানুষের মধ্য থেকে এক-একজন নবী ও রাসুলও পাঠিয়েছেন—এ কথা বাস্তবে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য যে ওহি ও কিতাবে বিধৃত হুকুম-আহকাম, বিধি-বিধান কেমন করে সে তার বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করবে, কিভাবে সেগুলোর ওপর সে আমল করবে। সঙ্গে সঙ্গে তার নফস ও প্রবৃত্তি যেন তাকে ধোঁকা দিতে না পারে যে আমরা তো মানুষ, আমাদের জন্য এই বিধি-বিধানগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিবেক তাকে উদ্বুদ্ধ করবে—‘নবী ও রাসুলও তো মানুষ, তাঁর জন্য সম্ভব হলে আমার জন্য তা সম্ভব হবে না কেন?’
আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন হলো কিতাবুল্লাহ তথা আল কোরআনের বাস্তব রূপ। একবার উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নবী (সা.) কেমন ছিলেন? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা কি কোরআন পাঠ করো না? কোরআনই তাঁর চিত্রিত চরিত্র।

(ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ, হাদিস ৭৪৬; ইমাম আহমদ, আল মুসনাদ, হাদিস : ২৪০৮০)
তিনি ছিলেন কোরআনি চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। তদ্রূপ সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবন ছিল আল্লাহর রাসুলের জীবনের প্রতিবিম্বিত রূপ। সাহাবায়ে কেরামের যুগকে বলা হয় নবীযুগের পরিশিষ্ট। আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জানতে হলে, বুঝতে হলে সাহাবিদের এড়িয়ে সম্ভব নয়।
সে হিসেবে রাসুল (সা.) যেমন হক ও বাতিলের মাপকাঠি, তেমনি সাহাবিরাও হলেন সত্য ও অসত্যের পার্থক্য বিধানকারী; তাঁরা হলেন সত্যের মাপকাঠি। কোরআন মাজিদে সাহাবিদের ঈমানের মাপকাঠি বলে গণ্য করা হয়েছে। ঈমানের দাবিদার কপটচারীদের, মুনাফিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে—‘এরা যদি তোমাদের (সাহাবিদের) ঈমানের মতো ঈমান আনে তবে তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে।’
(সুরা : আল বাকারাহ, আয়াত : ১৩৭)
সাহাবিদের সমালোচনার ঊর্ধ্বে বলে জ্ঞান করা এবং ঈমান রাখার ওপর হাদিসে তাগিদ করা হয়েছে।
নবী (সা.) বলেন, ‘আমার সাহাবিদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো। আমার পরে তাদের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত কোরো না। তাদের যারা ভালোবাসবে, আমাকে ভালোবাসে বলেই ভালোবাসবে। আর তাদের প্রতি যে বিদ্বেষ পোষণ করবে, আমার প্রতি বিদ্বেষ রাখার কারণেই সে তা করবে।’(ইমাম তিরমিজি, আস-সুনান, হাদিস : ৩৮৬২)
অতএব, সাবধান!
সে চোখ কোথায় পাবে?
তোমরা সে চোখ কোথায় পাবে, যা মহানবী (সা.)-এর সৌন্দর্য মাধুরিমা করেছিল প্রত্যক্ষ; এমন শ্রবণ-ইন্দ্রিয় কোথায় তোমার নবী-এ-করিমের কণ্ঠ শুনে হয়েছিল, যা মহিমান্বিত; এমন হৃদয় কোথায় তোমার—নূরে মুহাম্মদীর শ্বাসে যা হয়েছিল সঞ্জীবিত; এমন মস্তিষ্ক কোথায় পাবে পবিত্র জ্যোতিরাশিতে, যা হয়ে উঠেছিল উদ্ভাসিত; এমন হাত কোথায় পাবে, একবারের ছোঁয়ায় যা হয়ে উঠেছিল গন্ধমদির, মৃগনাভিসম সুরভি, যার নিঃশেষ হয়নি কখনো।
ওই পা কোথায় তোমার মাহবুবে খোদার সঙ্গে চলে যা হয়েছিল ক্লান্ত। কোথায় সেই যুগ, যে যুগের আকাশ এসেছিল নেমে এই ধরণীতলে? ওই স্থান কোথায় আজ উভয় জাহানের নেতা ছিলেন যেখানে শোভিত, কোথায় ওই মাহফিল, ইলাহী প্রেমের ‘শারাবান তাহুরা’ বিলানো হতো পেয়ালা ভরে, তবু ‘আরো চাই’ বলে উন্মত্ত হয়ে উঠত প্রেমতৃষ্ণার্ত চাতকেরা।
সেই যুগকে ভালোবাসো, সত্যম উদ্দীপম সেই যুগ। সেই যুগের সংসর্গপ্রাপ্তদের ভালোবাসো, অনুসরণ করো। তা ছাড়া ঈমানকে মহিমান্বিত করার দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।
‘রিজালুল্লাহ’-এর এই মহান ধারা ওলামায়ে সালিহিন ও ওলিদের মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।









