ধর্ম

কোরআনকে উপলব্ধি করতে হবে রুহ দিয়ে

নিউজ ডেস্ক৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মানুষ দেখে, কিন্তু সবার দেখা এক নয়। যেমন—পবিত্র কোরআন এক। এই একই কোরআন কারো জন্য হেদায়েতের মাধ্যম। আবার কারো জন্য আখিরাতের পরম বন্ধু ও সাক্ষী।

কারো কারো জন্য এই কোরআন আবার কারো কারো বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে অভিযোগকারীও হবে (নাউজুবিল্লাহ)। কারণ একই কোরআন কারো কাছে শুধু কাগজে ছাপা কিছু অক্ষর, আবার কারো কাছে তা জীবনের দিকনির্দেশনা, কারো কাছে ভালোবাসা ও প্রশান্তির বারিধারা, আর কারো কাছে রব্বুল আলামিনের উপস্থিতির জীবন্ত অনুভূতি। নিম্নে কোরআন নিয়ে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির চিত্র তুলে ধরা হলো—
অনুভূতিহীন সাধারণ চোখের দৃষ্টি : মানুষের প্রথম ও সাধারণ দৃষ্টি হলো চোখের দৃষ্টি। যেখানে কোনো আবেগ, অনুভূতি কাজ করবে না।

এই দৃষ্টিতে কোরআনে তাকালে পাতার পর পাতায় লেখা কিছু অক্ষরের সমষ্টি মনে হবে। কেউ চোখে দেখলেও তিলাওয়াতে অক্ষম, আবার কারো তিলাওয়াতের সক্ষমতা থাকলেও আবেগ, অনুভূতি না থাকার কারণে তার কাছে এটি স্বাভাবিক কোনো বইয়ের মতো মনে হতে পারে (নাউজুবিল্লাহ)। কোরআনকে বা হেদায়েতের আহবানকে এ ধরনের দৃষ্টিতে দেখত অবিশ্বাসীরা। পবিত্র কোরআনে তাদের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি বহুসংখ্যক জিন আর মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তা দিয়ে উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দিয়ে দেখে না, তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে শোনে না, তারা জন্তু-জানোয়ারের মতো, বরং তার চেয়েও পথভ্রষ্ট, তারা একেবারে বে-খবর।

’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৭৯)
বিবেকের দৃষ্টি : যখন মানুষ পবিত্র কোরআনের দিকে বিবেক (আকল) দিয়ে তাকায়, তখন অক্ষরের ভেতর অর্থ জেগে ওঠে। কোরআনের আদেশ, নিষেধ ও পূর্ববর্তী নসিহতগুলো তাকে ভাবাতে শুরু করে ও গবেষণা করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা মানুষকে আল্লাহর পরিচয় ও হেদায়েত লাভে সহায়তা করে। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা : সোয়াদ, আয়াত : ২৯)

অন্তরের দৃষ্টি : কেউ কেউ কোরআনের দিকে দৃষ্টিপাত করে অন্তরের দৃষ্টি দিয়ে।

তারা যখন কোরআন তিলাওয়াত করে তখন তাদের অন্তরে ভালোবাসার উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ তৈরি হয়। তাদের হৃদয়ে প্রশান্তির বারিধারা বইতে থাকে। তারা আল্লাহর গভীর প্রেমে মগ্ন থাকে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’
(সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

তাফসিরবিদগণের মতে, এখানে আল্লাহর স্মরণ বোঝাতে আরবি ‘জিকির’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দিয়ে ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, মোনাজাত সব অর্থ নেওয়া যেতে পারে।

রুহের দৃষ্টি : এটি কোরআন পাঠের সর্বোচ্চ স্তর। এমনভাবে কোরআন তিলাওয়াতের চেষ্টা করা, যেন সরাসরি মহান আল্লাহকে অনুভব করছে। শুধু কোরআন পাঠ নয়, এই স্তরে গিয়ে যেকোনো ইবাদত করতে পারলে তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ইবাদতের এই স্তরকে হাদিসের ভাষায় বলা হয়েছে ‘ইহসান’। মহানবী (সা.) ইহসানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, ‘আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান, তবে (মনে করবেন) তিনি আপনাকে দেখছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০)

তাই আমাদের উচিত, পবিত্র কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা। কোরআন মোতাবেক জীবন গড়ার চেষ্টা করা। কোরআনকে রুহ দিয়ে অনুভব করা।