প্রফেসর ড. মু. আলী আসগর:
করোনাভাইরাস পরিবার চারটি প্রধান জেনাসে বিভক্ত—আলফা করোনাভাইরাস, বিটা করোনাভাইরাস, গামা করোনাভাইরাস, ও ডেল্টা করোনাভাইরাস। বিশ্বখ্যাত ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী, সার্স-কোভ-১ (SARS-CoV-1), মার্স-কোভ (MERS-CoV) ও কোভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2) এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর অন্য দুইটি করোনাভাইরাস HCoV-OC43 ও HCoV-HKU1 বিটা করোনাভাইরাস জেনাসের অন্তর্ভুক্ত। HCoV-OC43 ও HCoV-HKU1 করোনাভাইরাস শ্বসনতন্ত্রের উচ্চাংশে (নাক, কান, গলা) মৃদু থেকে মাঝারি সংক্রমণ করে; এই দুইটি করোনাভাইরাস শীতকালীন সাধারণ সর্দিকাশির দ্বিতীয় প্রধাণ কারণ হিসেবে বিবেচিত।
ট্রেন্ডস ইন মাইক্রোবায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী, সার্স-কোভ-১ ও মার্স-কোভ ভাইরাসের কারণে মারাত্মক অসুস্থতা সহ মৃত্যু হার যথাক্রমে প্রায় ৯% ও ৩৬% ছিল, তবে এ দুইটি ভাইরাসের সংক্রমণ সীমিত পর্যায়ে আছে। কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের প্রায় ১৫ শতাংশ মারাত্মকভাবে ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়েছে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর সিএসএসই প্রদত্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান মারাত্মক সংক্রমক সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের কারণে কোভিড-১৯ রোগে বিশ্বে ইতোমধ্যে ২৪ লক্ষের অধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

বর্তমানে কোভিড-১৯ রোগের কোন প্রতিষেধক, ভ্যাকসিন বা এন্টিভাইরাল ড্রাগ না থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক শিষ্টাচার বা শারীরিক দূরত্ব, স্কুল ও কর্মক্ষেত্র বন্ধ এবং জনসমাবেশের আকার সীমিতকরণ করছে। কৌশলগুলোর উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে, মহামারির তীব্রতার সীমা হ্রাস করা (‘ফ্ল্যাটেন দ্য কার্ভ’), স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপের ঝুঁকি কমানো ও নতুন চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন সৃষ্টিতে সময় পাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ায় বেশ কিছু দেশ লকডাউনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০ মার্চ, ২০২০ তারিখে নতুন করোনাভাইরাস দ্বারা শ্বসনতন্ত্রের মারাত্মক রোগের চিকিৎসা খুঁজতে মানবদেহে ব্যাপক বিশ্বব্যাপী পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে, যাকে ‘SOLIDARITY’ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিদ্যমান চারটি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ওষুধ পরীক্ষার জন্য গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেগুলো হলো-১) এন্টিভাইরাল কমপাউন্ড রেমডেসিভির; ২) ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইনিন ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনিন; ৩) অ্যান্টি-এইচআইভি কমবিনেশন ড্রাগ লোপিনাভির ও রিটোনাভির এবং ৪) অ্যান্টি-এইচআইভি কমবিনেশন ড্রাগ লোপিনাভির ও রিটোনাভির প্লাস ইন্টারফেরন-বেটা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই উদ্দ্যেগের কারণে বর্তমানে বিশ্বে কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসা অনুসন্ধানে কয়েক শত ক্লিনিক্যাল ট্র্যায়াল চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন মেডিসিন আবিস্কারে বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে বিবেচনায়, বর্তমানে বিশ্বের গবেষকগণ অন্য রোগের জন্য ইতোপূর্বে অনুমোদনকৃত (Approved) ব্যপক নিরাপদ ড্রাগগুলোর পুনঃপরীক্ষণ করছেন। তাঁরা অননুমোদিত (Unapproved) ড্রাগগুলোর দিকেও দৃষ্টিপাত করছেন যা ইতোপূর্বে প্রাণীদেহে স্ট্যাডিজতে (পরীক্ষণগুলোতে) অন্য দুইটি মারণ করোনাভাইরাস, সার্স-কোভ-১ ও মার্স-কোভ রোধে ভালো ফল দিয়েছিল। সার্স-কোভ-১ ও মার্স-কোভ—এ দুটি করোনাভাইরাসের সঙ্গে কোভিট-১৯ রোগের জন্য দায়ী সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত ও এ তিনটি করোনাভাইরাস বিটা-করোনাভাইরাস জেনাসের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, বিশ্বখ্যাত ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী, করোনাভাইরাস পরিবার চারটি প্রধান জেনাসে বিভক্ত—আলফা করোনাভাইরাস, বিটা করোনাভাইরাস, গামা করোনাভাইরাস, ও ডেল্টা করোনাভাইরাস।
রেমডেসিভির ড্রাগ মূলত ইবোলা ভাইরাসকে প্রতিহত করতে আমেরিকার গিলেড সায়েন্সেস কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়েছিল। গিলেড সায়েন্সেস ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, রেমডেসিভির হচ্ছে বিস্তীর্ণ স্পেক্ট্রমের এন্টি-ভাইরাল ড্রাগ। রেমডেসিভির ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এবং প্রাণী মডেলে মার্স-কোভ ও সার্স-কোভ-১ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সক্ষমতা দেখিয়েছিল। রেমডেসিভির বিশেষভাবে একটি নিউক্লিওটাইড এনালগ; এটি ভাইরাসের আরএনএ এর শিকলে (Chains) প্রবেশ করে, ফলে শিকলের (Chains) অকাল ভাঙ্গন ঘটে। এডভ্যান্সেস ইন ভাইরাস রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, করোনাভাইরাস হচ্ছে আবরণ বিশিষ্ট আরএনএ ভাইরাস পরিবার যা মানুষের শ্বসনতন্ত্রে (বিশেষভাবে ফুসফুস) সংক্রমণ করে। করোনাভাইরাস তিনটি মৌলিক উপাদান, রাইবোনিউক্লিক এসিড, প্রোটিনস এবং লিপিডস দ্বারা গঠিত হয়।
গিলেড সায়েন্সেস রেমডেসিভির ড্রাগ ভাইরাসের রেপ্লিকেশনের (অনুলিপন) প্রধান এনজাইম আরএনএ-ডিপেন্ডেন্ট আরএনএ পলিমারেজ এর কাজকে বাধা দিয়ে ভাইরাসের বংশ বিস্তার বন্ধ করে। রেমডেসিভির ড্রাগের ২০১৯ সালে কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসকে রোধে ব্যর্থ হয়েছিল (সূত্রঃ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’)। অন্যদিকে, সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় গবেষকগণেরা দেখিয়েছেন, টেস্ট টিউবে সেল কালচার ও ইদুরের দেহে পরীক্ষায় রেমডেসিভির ড্রাগ সার্স-কোভ-১ ভাইরাসের রেপ্লিকেশন এনজাইমকে বাধাগ্রস্থ করে ভাইরাসের বংশবিস্তার ব্যহত করতে সক্ষম হয়েছিল। সম্প্রতি সেল রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় রেমডেসিভির প্রবলভাবে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিহত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউ সি ডেভিস মেডিক্যাল সেন্টারের রোগ সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ জর্জ থমসন কোভিড-১৯ এ মারাত্মক আক্রান্ত একজন রোগীকে রেমডেসিভির ড্রাগ দিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ করেছেন। বিশ্বের অনেক ডাক্তার কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় রেমডেসিভির সম্ভাবনায় আশাবাদী। ওষুধটি যদি কোভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস সার্স-কোভ-২ কে নির্মুল বা বিস্তার ধীর করতে পারে, মারাত্মক অসুস্থ ব্যক্তির জীবনাশঙ্কা কেটে যাবে, , এমনকি সংক্রমণের বড় ঝুঁকিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের রক্ষার জন্য prophylactically (রোগ আক্রমণ এড়াইবার জন্য চিকিৎসা হিসেবে) কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদ ওয়েবসাইট “স্টাট” নিউজ ১৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখে জানিয়েছে, গিলেড সায়েন্সেস কর্তৃক আবিষ্কৃত রেমডেসিভির ড্রাগ দিয়ে দ্য ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো মেডিসিন এর চিকিৎসকগণের নিবিড় পর্যবেক্ষন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষামূলক চিকিৎসায় শ্বসনতন্ত্রের গুরুতর লক্ষণযুক্ত সমস্যা সহ উচ্চ তাপমাত্রার জ্বরে মারাত্মক অসুস্থ কোভিড-১৯ রোগীরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করেছে এবং প্রায়ই সকল রোগী এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে। রোগীকে বিশ মিলিলিটার ভায়ালের একশত মিলিগ্রাম রেমডেসিভির ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো মেডিসিন সম্প্রতি গিলেড সায়েন্সেস এর রেমডেসিভির দ্বারা ১২৫ জন কোভিড-১৯ রোগীর উপর তিনটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দুই ধাপে চিকিৎসা করে। রোগীদের মধ্যে ১১৩ জন মারাত্মকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সকল রোগীকে প্রতিদিন রেমডেসিভির প্রয়োগ করা হয়েছিল। ১৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদ ওয়েবসাইট “স্টাট” নিউজ এর সূত্র অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো এর সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাথলিন মুলেন কোভিড-১৯ রোগীদের রেমডেসিভির দ্বারা উক্ত নিবিড় পর্যবেক্ষন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রধান ছিলেন। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাথলিন মুলেন বলেন, “সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে আমাদের অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এটি বিশাল। আমাদের মাত্র দুই জন রোগী প্রাণ হারান।”
বর্তমানে রেমডেসিভির এর একই ধরণের ক্লিনিক্যাল ট্রায়্যাল কয়েক শত প্রতিষ্ঠানে চলমান আছে এবং এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না সকল ট্রায়ালের ফলাফল পজিটিভ হবে। এখন পর্যন্ত গিলেড সায়েন্সেস এর স্ট্যাডিজের (পরীক্ষা) কোন ক্লিনিক্যাল ডেটা (ফলাফল) প্রকাশিত হয় নাই। গিলেড সায়েন্সেস ১৬ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা এই পর্যায়ে যা বলতে পারি তা হলো, চলমান গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের প্রত্যাশায় রয়েছি।’ গিলেড আশা করছে তাদের মারাত্মকভাবে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে রেমডেসিভির ট্রায়ালসের (পরীক্ষণ) ফলাফল এপ্রিল, ২০২০ মাসে পাওয়া যাবে।
ক্যাথলিন মুলেন যখন রেমডেসিভির এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়্যালের ফলাফল সম্পর্কে অনুপ্রাণিত ছিলেন, তখন তিনি তাঁর দ্বিধা অনেক মন্তব্যের মাধ্যমে সুস্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, এটি সবসময় কঠিন কারণ কোভিড-১৯ মারাত্মক রোগীদের নিয়ে তাঁর নেতৃত্বে ট্র্যায়ালসে তুলনা করার জন্য একটি প্ল্যাসেবো গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি (প্ল্যাসেবো গ্রুপ হচ্ছে— শুধুমাত্র যে গ্রুপের রোগীদের স্বান্তনা দেওয়ার জন্য ওষুধের নামে অন্য কিছু দেওয়া হয়, রোগ নিরাময়ের জন্য নয়)। কিন্তু তিনি বলেন, ট্রায়ালসে রোগীদের ওষুধ প্রয়োগের পর প্রায় সকল রোগীদের অনেক মাত্রার জ্বর দ্রুত কমতে শুরু করে। করোনায় আক্রান্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় ভর্তির সময় অনেক রোগীর প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট থাকায় ভেন্টিলেটার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা (ক্যাথলিন মুলেন এর টিম) দেখেছি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসে রেমডেসিভির ড্রাগ থেরাপি আরম্ভের এক দিন পর রোগীরা সুস্থ বোধ করায় ভেন্টিলেটার ব্যবহার প্রয়োজন হয় নাই (তথ্য সূত্রঃ ১৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদ ওয়েবসাইট “স্টাট” নিউজ)। ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো এর সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাথলিন মুলেন আরোও বলেন, অধিকাংশ মারাত্মকভাবে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ছিল এবং অধিকাংশ সুস্থ হয়ে ছয় দিনেই হাসপাতাল ত্যাগ করেছে। তাই ১০ দিনের ট্রায়ালসে অধিকাংশ রোগী ১০ দিনের আগে সুস্থ হয়েছে (তথ্য সূত্রঃ ১৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদ ওয়েবসাইট “স্টাট” নিউজ)।
এক বিবৃতিতে ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো মেডিসিন বলেছে, ‘এ মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না এবং তা বৈজ্ঞানিকভাবে যুক্তযুক্ত নয়।’ ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর রেমডেসিভির এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়্যালের সম্পর্কে স্ক্রিপস রিসার্চ ট্রান্সলেশনাল ইনস্টিটিউটের পরিচালক এরিক টপল বলেছেন, এটা উৎসাহব্যঞ্জক। মারাত্মক রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি থাকে বেশি। যদি ১১৩ জন রোগী এ ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার ছাড়পত্র পায় তবে তা ওষুধের কার্যকারিতার পজিটিভ ইঙ্গিত। তবে আরও গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো মেডিসিন এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া কোভিড-১৯ রোগে মারাত্মক আক্রান্ত ৫৭ বছর বয়সী স্লাওমির মিকালাক বলেন, ৩ এপ্রিল তার জ্বর ১০৪ ডিগ্রিতে ওঠে ও শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। হাসপাতালে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। ৪ এপ্রিল তাঁর শরীরে রেমডেসিভির দেওয়া হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জ্বর নেমে গেল এবং তিনি আগের চেয়ে ভালো বোধ করতে শুরু করলেন। স্লাওমির মিকালাক মন্তব্য করেন, ‘রেমডেসিভির অলৌকিক এক ওষুধ।’
বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো মেডিসিন কর্তৃক গিলেড সায়েন্সেস এর রেমডেসিভির এর সফলতা অবশ্যই আশাব্যাঞ্জক। বর্তমানে বিশ্বের ১৫২টি স্থানে গুরুতর কোভিড-১৯ রোগের উপসর্গ রয়েছে এমন ২ হাজার ৪০০ রোগীর ওপর রেমডেসিভির ওষুধটির পরীক্ষা চলছে। এ ছাড়া বিশ্বের ১৬৯টি সেন্টারে মাঝারি পর্যায়ের কোভিড-১৯ রোগের উপসর্গ রয়েছে এমন ১ হাজার ৬০০ রোগীর মধ্যেও ওষুধটির পরীক্ষা হচ্ছে। অধিকতর বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যাপক মানুষের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হতে পারলে, তা দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ও অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে প্রথম অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে অনুমোদন পাবে। তবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিন্মোক্ত সুপারিশগুলো মেনে চলতেই হবে।
১. কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে ঘনঘন সাবান বা ৬০-৮০% অ্যালকোহলসমৃদ্ধ হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া।
২. মুখে ও নাকে মাস্ক ব্যবহার করে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির ভাইরাস ধারণকৃত তরল ড্রপলেট থেকে রক্ষা পাওয়া।
৩. অন্য মানুষ থেকে নিরাপদ দূরত্ব অর্থাৎ অন্তত ১ মিটার (৩ ফুট) দূরত্ব বজায় রাখা। কারণ কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিলে মুখ ও নাক দিয়ে তরল ড্রপলেট নিঃসৃত করে যা ভাইরাস বহন করে।
লেখক:- প্রফেসর ড. মু. আলী আসগর: অধ্যাপক, ক্রপ সায়েন্স ও টেকনোলজি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।








