সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও বাজিতপুরে পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ৫৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কটিয়াদীতে অন্তত ১৮ জন এবং বাজিতপুরে ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া শিয়ালের কামড়ে তিনটি ছাগল ও দুটি গরু গুরুতর আহত হয়েছে। গত দুই দিনে এই উপজেলার ছয়টি গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
আহতদের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আহতদের মধ্যে কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পাড়া মন্ডলভোগ গ্রামের মো. মোস্তফার স্ত্রী ছকিনা বেগম (৫০), আব্দুল মান্নানের স্ত্রী শামসুন্নাহার (৪৫), শিপন মিয়ার স্ত্রী হারিছা বেগম (৩৪), মাসুদ মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩০), রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী জোছনা আক্তার (৩৮), উসমানের স্ত্রী জরিনা বেগম (৩৭), কেনু মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৫৫), আব্দুস সোবহানের ছেলে কাশেম আলী (৪৫) ও আব্দুল আহাদের ছেলে বোরহান মিয়া (৩৮) রয়েছেন।
অন্যদিকে বাজিতপুরে আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. সাইম মিয়া (২৫), কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উসমান মিয়া (৩৫), মীর হোসেনের ছেলে টেনাই মিয়া (৪৫), মস্তু মিয়ার ছেলে মো. ইমন মিয়া (২৫), সৈয়দ বুরহান মিয়ার স্ত্রী রুকসানা (৩৫), মোস্তাকিম মিয়ার স্ত্রী সখিনা খাতুন (৩৫), জামাল মিয়ার স্ত্রী আকলিমা খাতুন (৪০), আনোয়ারা মিয়া (৫০) ও মো. জামাল মিয়া (৪৫) রয়েছেন।
কটিয়াদীর বোয়ালিয়া তাহেরা নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আবু সিদ্দিক জানান, একটি শিয়াল চান্দপুর ইউনিয়নের পাড়া মন্ডলভোগ গ্রামে প্রথমে দুটি গরুকে কামড় দেয়। গরু দুটিকে রক্ষা করতে মালিকরা এগিয়ে গেলে শিয়ালটি তাঁদেরও আক্রমণ করে।
এরপর একে একে অন্তত নয়জন নারী-পুরুষকে কামড়ে আহত করে।
তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে চারজনকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। দুজনকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. ঈশা খান জানান, মঙ্গলবার রাতে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে কটিয়াদী ও বাজিতপুরের বিভিন্ন গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিয়ালটি কোথায় রয়েছে, তা এখনো শনাক্ত বা আটক করতে পারেননি স্থানীয়রা। শিয়ালের ভয়ে গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।









