সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘গানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে’, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে বাউল গানের আসর নিয়ে আপত্তির পর এবার জগন্নাথপুর পৌরসভার কেশবপুর বাজারে গানবাজনা ও ইসলামবিরোধী কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে এমন দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন কমিটির সদস্যরা।
এতে কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় গানবাজনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন—স্থানীয় বাসিন্দা কাদির মিয়া, রফিক মিয়া, মো. তৈয়মুছ আলী, আনকার মিয়া, খালেদ মিয়া, সোহেল মিয়া, মো. রফিকুল মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আবু মিয়া, রফিক আলী, দিলা মিয়া, ওয়াহিদ মিয়া, এখলাক মিয়া, আবু তাহের, আওলাদ মিয়া, তারেক মিয়াসহ অনেকে।
স্বাক্ষরকারীরা জানান, তারা জানতে পান যে—কবরস্থানের পাশে কবি রাধারমণ দত্তের নামে কয়েক জন ব্যক্তি গান-বাজনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কার্যক্রমকে অনৈসলামিক বলে মনে করছেন তারা।
তারা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে এই গানবাজনার আয়োজন বন্ধের জন্য ইউএনওর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়, ‘কবরস্থান সংলগ্ন স্থানে গানবাজনা হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়ে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জনস্বার্থে ওই স্থানে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইউএনওর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা।
’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আসলে গানবাজনা বন্ধের আবেদন করা হয়নি। তারা একটি চিঠি দিয়ে বলেছেন, কেশবপুর গ্রামের কবরস্থানের পাশে যেন গানবাজনার আয়োজন করা না হয়। কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় সবার সঙ্গে কথা বলে কবি রাধারমণ দত্তের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। যেন আরো সুন্দর সুপরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়।
’
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকত আলীর বাড়িতে বাউল গানের আয়োজন করা হয়। হাতিয়া গ্রামের পাশের তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বাড়ি।
তবে ‘গানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে’ উল্লেখ করে নারী শিল্পীদের নিয়ে একাংশের আপত্তিতে বাউল গানের আয়োজনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে গানের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।









