জাতীয়

‘এহন কনে যাবো? ঘর যে বানাবো সেই টাহা-ই তো নাই’

নিউজ ডেস্ক১০ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

এক ঝাপটায় সব শেষ। বাঁচে আছি এইটুক বেশি। ছেলে মেয়ে নিয়ে ‘এহন কই যাব? ঘর যে বানাবো সেই সামর্থ্য তো নাই ‘ বড় কষ্টে পড়ছি আমরা। ঘর ভাঙে পড়লি, দুই সন্তান কোলে করে দৌড় মারি, পাশের বাড়ি যায়ে উঠি।

ওরা আমাগে রাতি থাকতি দেছে। কিন্তু এহন আমরা কই যাব? কথা গুলো বলছিলেন মৌহা বিশ্বাস।
মৌহা বিশ্বাস নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তালেশ্বর গ্রামের মিঠুন বিশ্বাসের স্ত্রী। অভাবের সংসারে বিয়ে হয় তার।

বিয়ের পর থেকে স্বামী স্ত্রী দুইজনে মাঠে কাজ করে কোনো রকম ভাবে সংসার চালন এ দম্পতি।
গত শনিবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখি ঝড়ে উড়ে যায় ঘরের চালা। গাছ ভেঙে পড়ে দুমড়ে মচকে যায় পুরো ঘর। পুরোনো টিনের জরাজীর্ণ ঘরে জোড়াতালি কোনো রকমভাবে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন তারা।

রবিবার (১০ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌহা তার স্বামীকে নিয়ে ঝড়ে উড়ে যাওয়া ঘরের টিন বাড়ির সামনে থেকে তুলে আনছেন। ঘরে পড়ে থাকা বিশাল আকৃতির রেন্ট্রি গাছ স্থানীয় কেটে সরিয়ে দিতে সহায়তা করছেন। ঘরের টিন গুলো ধুমড়ে মচকে গেছে। ধুমড়ে মচকে পড়া টিন পিটিয়ে সোজা করা হচ্ছে।ঘরটি কোন রকম তোলা যায় সেই চেষ্টা তাদের।

মৌহা বিশ্বাসের স্বামী মিঠুন বিশ্বাস বলেন, ‘সারাদিনের কাজ শেষ করে বারান্দায় এসে কেবল একটু বসলাম। হঠাৎ ঝড় এসে উড়িয়ে নিয়ে যায় ঘরের চাল। এদিকে ঘরের পিছনের রেন্টি গাছ এসে ভেঙে পড়ে ঘরের ওপর। অভাবের সংসার আমার। মা অসুস্থ। যা আয় হয় খেয়ে পড়ে জীবন বাঁচানো দায়। ভাঙাচোরা ঘরটিতে বৌ বাচ্চা নিয়ে থাকতাম। ঝড়ে যা করে দিয়ে গেল, এহন আমরা কই যাব? সরকার যদি আমাদের একটু সাহায্যে করত, ঘর করে বৌ বাচ্চা নিয়ে বাঁচতে পারতাম।’

কালবৈশাখির তাণ্ডবে উড়ে যাওয়া ঘর দেখতে ছুটে এসেছেন স্থানীয়রা। ঘরের ওপর পড়ে থাকা গাছ কেটে সহায়তা করছেন তারা। ওড়া যাওয়া টিনের চালা এগিয়ে এনে ও দিচ্ছেন অনেকে।

তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ইকরামুল বিশ্বাস বলেন, ‘ঝড়ে ঘর উড়ে যাওয়া কথা শুনে দেখতে এসেছি। অনেক কষ্টের সংসার তাদের। মিঠুনের যখন দুই বছর বয়স তখন তার বাবা তাকে ও তার মাকে রেখে চলে যায়। সেই থেকে অভাব পিছু ছাড়েনি। মা এখন অসুস্থ। বৌ বাচ্চা নিয়ে কোনো রকম সংসার চলে তার। ঝড়ে যা ক্ষতি হল তা পুষিয়ে নেওয়া দায়।’

নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) টি.এম. রাহসিন কবীর বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মৌহা বিশ্বাসের পরিবার আবেদন করলে সরকারি নিয়মে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।’