অর্থ ও বাণিজ্য

এলপিজির চাহিদা ১৮ গুণ বেড়েছে এক দশকে

নিউজ ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৩৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:

পাইপলাইনে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এলপিজি বা বোতলজাত সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা। জ্বালানি বিভাগের তথ্য মতে, দেশে ২০১৩ সালে এলপিজির চাহিদা ছিল ৮০ হাজার টন। ২০২৩ সালে এসে সেই চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টনে। অর্থাৎ এক দশকে এলপিজির চাহিদা বেড়েছে অন্তত ১৮ গুণ। ২০৩০ সালে এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩০ লাখ টনে।

চাহিদা বাড়ায় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এলপিজির আমদানি ও উৎপাদন বাড়াতে। তবে সেটা অত্যন্ত ধীরগতিতে। অব্যাহতভাবে বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ বাড়লেও সরকারি পর্যায়ে এলপিজির আমদানি-সরবরাহ প্রায় একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে। তবে সরকারের বড় কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নাধীন।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কক্সবাজারের মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকায় একটি বৃহৎ এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যেগ নেয় বেশ কয়েক বছর আগে। তবে সেটা খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বিপিসি বলছে, মাতারবাড়ীতে রেফ্রিজারেটেড মাদার টার্মিনাল করা হবে, যেখান থেকে এলপিজি কোম্পানির কাছে পাইকারি এলপিজি গ্যাস বিক্রয় করা হবে। পরবর্তী সময়ে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বিক্রির লক্ষ্যে ‘বটলিং’ প্ল্যান্টও স্থাপন করা হবে।

বিপিসি যে পরিকল্পনা করছে, সেখানে নির্মিত টার্মিনালে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার রেফ্রিজারেটেড এলপি গ্যাসবাহী জাহাজ নোঙর করা যাবে। টার্মিনাল থেকে জাহাজে করে পাইকারি বা বাল্ক এলপি গ্যাস দেশের বিভিন্ন এলপি গ্যাস কোম্পানির কাছে সরবরাহ করা হবে।

বিপিসি বলছে, বড় আকারের এলপি গ্যাস টার্মিনাল স্থাপন করা হলে খরচ কমবে। ফলে দেশে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দাম কমবে। সাধারণ ভোক্তারা উপকৃত হবেন। বর্তমানে মোংলা ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এলপি গ্যাস আমদানির সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তবে এসব জায়গায় নদীর নাব্যতা বা গভীরতা কমবেশি থাকায় বেসরকারি এলপি কোম্পানিগুলো ছোট ছোট আকারে এলপি গ্যাস আমদানি করছে। ফলে খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

বিপিসি বলছে, কক্সবাজার বা মহেশখালী মাতারবাড়ী এলাকায় স্থাপিত এলপিজি টার্মিনালের অপারেশন ক্ষমতা হবে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের লতিফপুর এলাকায় বার্ষিক আরও এক লাখ মেট্রিক টন বোতলজাত এলপি গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতার বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, এলপিজি এখন শুধু রান্নায় ব্যবহার হচ্ছে না, শিল্প খাত, অটোমেটিভ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ক্রমেই বড় হচ্ছে এর বাজার। এই ক্রমবর্ধমান বাজারে নিজের অবস্থান তৈরি করতে বেসরকারি কোম্পানিগুলো দ্রুত এগিয়ে আসছে। কেবল পিছিয়ে আছে সরকারি উদ্যোগ। এমনকি সরকার একটি এলপি কোম্পানি বছরের পর বছর ধরে লোকসানে আছে। বর্তমানে বছরে ১৫ লাখ টন এলপি গ্যাসের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০ হাজার টন উৎপাদন করছে কোম্পানিটি।

বর্তমানে বসুন্ধরা, ওমেরা, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (ফ্রেশ), বেক্সিমকো, এস আলম গ্রুপ ও জেএমআই গ্রুপের মতো ২৯টি প্রতিষ্ঠান দেশে এলপিজি ব্যবসা করছে। এ ছাড়া ফ্রান্সের টোটালগ্যাজ, ডাচ পেট্রোম্যাক্স এবং হংকংয়ের কাই হেং লং গ্লোবাল এনার্জির মতো বিদেশি কোম্পানিও বাজারে জায়গা পেতে চায়। নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে সিটি গ্রুপ।

সরকার এখন দেশে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে। এ কারণে এলপিজির বাজার ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ হারে বড় হচ্ছে। বর্তমান এলপিজি অপারেটরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্টোরেজ সক্ষমতা রয়েছে জেএমআই গ্রুপের, ১৪ হাজার টন। স্টোরেজ সক্ষমতার দিক থেকে এর পরেই আছে বিএমআই এনার্জি (১০ হাজার ৭০০ টন), ওমেরা (৯ হাজার ৬০০ টন) এবং বসুন্ধরা (৯ হাজার ৩০০ টন)।

প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়ে ২০০৮ সাল থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন আবাসিক সংযোগ বন্ধ রেখেছে। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকবার আবাসিক সংযোগ দেওয়া শুরু করার চেষ্টা করা হলেও পরে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সরকারি উদ্যোগে এলপি গ্যাস টার্মিনাল, এলপি গ্যাস প্লান্ট স্থাপনে কাজ করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে আমরা চাই সরকারি কোম্পানির পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানি এ খাতে বিনিয়োগ করুক। মানুষের দোরগোড়ায় এলপি গ্যাসের সেবা নিশ্চিত করা হোক। বেসরকারি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে সরকার নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।

 

 

ট্যাগ: