জাতীয়

একনেকে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ, রাজবাড়ীতে আনন্দ

নিউজ ডেস্ক১৩ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় নির্মিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ। বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত।

এ ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের ২৬টি জেলা উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজবাড়ীতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়ার উদ্যোগে জেলা শহরের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে জেলা বিএনপির উদ্যোগে বের করা হয় আনন্দ মিছিল।

প্রকল্প অনুমোদনের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি গাজী আহসান হাবিব, জেলা বিএনপির সদস্য এ মজিদ বিশ্বাস এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান লিখন বলেন, এটি রাজবাড়ীবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। তারা এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বাড়বে এবং পদ্মা নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘একনেকে পদ্মা ব্যারাজ অনুমোদন হওয়ায় সবাইকে অভিনন্দন। এটি দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।’