সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সাগরে ইলিশ ধরা পড়ার খবর শুনে রায়হান আলম বাজারে ছুটেছেন। এবার বুঝি দাম কমেছে। বেশি করে কিনে ফ্রিজ ভর্তি করা রাখবেন। কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে চুপসে যান তিনি। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও রাজধানীর বাজারে দাম চড়াই আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ এখনো বাড়েনি। ফলে ইলিশ যেন বাঙ্গালীর পাতে তুলতে অনেকটা কষ্টই হচ্ছে।
এ বছরের জুলাই থেকেই বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরা পড়ছে। গত কয়েক দিনের খবর বলছে, সাগরে মাছ ধরার উৎসব চলছে। এবার দাম এখনো বাড়তি। ধানমন্ডি ৭/এ সড়কে পথের ধারেই বসে মাছের বাজার। ইলিশ নিয়ে বসে আছেন ক্রেতারা। আয়েশা খানম দাম শুনে নিচ্ছেন। বড় আকারে ইলিশ হালি তিন থেকে চার হাজার। বিক্রেতার মুখে চড়া দাম শুনে বললেন, ‘এখনো এত দাম!’ প্রথম আলোকে বলেন, দুই সপ্তাহ আগেও যে দামে কিনেছেন, এখনো তাই আছে। মৌসুমটা ইলিশের হলেও দাম কমছে না।

কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা কুদ্দুস মিয়া রোববার বিকেলে দুই হাতে বরফ সরিয়ে ইলিশ সাজাচ্ছেন। বললেন, ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি আট শ থেকে এক হাজার টাকা। ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের ইলিশ হালি তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। ইলিশ ধরা পড়ছে প্রচুর। এরপরও দাম না কমা প্রসঙ্গে এই বাজারের আরেক বিক্রেতা মো. আবু বলেন, ‘সাগরের ইলিশের খবর জানি না। দাম আগের মতোই। কমব কি না জানি না।’
‘বড় ই-লি-শ’, সুর করে ডেকে ডেকে মোতালেব ধানমন্ডির বিভিন্ন সড়কে মাছ বিক্রি করেন। দাম জিজ্ঞেস করতেই মাথা থেকে বড় পাত্র নামিয়ে নীল রঙের পলিথিন সরিয়ে রুপালি ইলিশ বের করলেন। আকারে বেশ বড়। বললেন, এক কেজির ওপরে। হাসি মুখে দাম বললেন, ‘এক পিস ৮০০ টাকা।’

ইলিশের সরবরাহ নিয়ে জানতে কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তে খোঁজ নিলে শোনা যায় একই সুর। সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও নগরে দাম কমার লক্ষণ নেই। সোনালি মৎস্য মার্কেটের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ওই মাছের সাপ্লাই আমরা এখনো পাই নাই। তয় ঈদের এক সপ্তাহ আগ দিয়া কমতে পারে। ঈদে চাহিদাও কম থাকব, আর ইলিশও আইব মনে হয়।’
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরিফ আজাদ বলেন, গত বছর ইলিশের উৎপাদন পাঁচ লাখ টন ছিল। এ বছর যদি একই পরিমাণ হয়, তাহলে তাঁরা সন্তুষ্ট। সরকারকে বলবেন, ইলিশ রপ্তানি করা যায় কি না, সে ব্যাপারে ভাবতে। তাঁর কথা, ইলিশের প্রাচুর্য নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।
গত বছরও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছিল। সে ইলিশের স্বাদ পেয়েছিল ধনী-গরিব সবাই। উৎপাদন বাড়লে গত বছরের মতো এবারও হাতের নাগালে হয়তো পাওয়া যাবে সম্প্রতি ভৌগোলিক নির্দেশক পাওয়া রুপালি ইলিশ। সূত্র: প্রথম আলো









