সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি নতুন কিছু বিভ্রান্তির পথও তৈরি করেছে। সম্প্রতি অনেকে এআই টুলস ব্যবহার করে হাতের রেখা বিশ্লেষণ করে নিজের ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা করছেন। গণমাধ্যমের তথ্য মতে, ওপেন এআই সম্প্রতি তাদের ‘চ্যাটজিপিটি ইমেজ ২.০’ এআই মডেল বাজারে এনেছে। মডেলটি ব্যবহার করে অনেকে নিজের হাতের ছবি আপলোড করছেন।
এরপর সেই ছবি বিশ্লেষণ করে ভিজ্যুয়াল ব্যাখ্যা জানাচ্ছে চ্যাটজিপিটি। বিষয়টি অনেকের কাছে কৌতূহল বা বিনোদন মনে হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। কারণ এটি সরাসরি গায়েব (অদৃশ্য জ্ঞান) জানার দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস হলো, ভবিষ্যৎ বা অদৃশ্য জগতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

হাতের রেখা দেখে তা নির্ণয় করার সুযোগ নেই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, বলো, আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহে ও জমিনে যারা আছে তারা গায়েব জানে না। আর কখন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে তা তারা অনুভব করতে পারে না।’
(সুরা : নামল, আয়াত : ৬৫)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তাঁর কাছেই রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ।
’
(সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)
অতএব, কোনো ব্যক্তি, জ্যোতিষী বা তাদের তত্ত্বের আলোকে বানানো নতুন প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ নির্ভুলভাবে জানাতে পারে, এমন বিশ্বাস ইসলাম সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে। কারণ মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে হাতের রেখার কোনো সম্পর্ক নেই। যার হাতই নেই, তারও তো ভাগ্য আছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) গণকদের ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে যায় এবং কিছু জিজ্ঞেস করে, তার ৪০ রাতের নামাজ কবুল হয় না।
’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৭১৪)
অর্থাৎ পরবর্তী ৪০ দিনের মধ্যে তার নামাজের সওয়াব সে পাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তার ওপর থেকে নামাজ আদায়ের দায়িত্ব উঠে যাবে; বরং তাকে অবশ্যই নামাজ আদায় করতে হবে, কোনো অবস্থায়ই তা মাফ হয় না। তবে ‘কবুল না হওয়া’র অর্থ হলো, সে নামাজ আদায় করলেও তাতে কোনো সওয়াব পাবে না, যদিও ফরজ আদায় হয়ে যাবে এবং তা আবার আদায় করতে হবে না।
আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ভবিষ্যৎ বলতে পারে বা গায়েবের খবর জানে—এমন ধারণা পোষণ করা ঈমানবিরোধী কাজ। এ ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো কাহিন বা আররাফের কাছে যায় এবং তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মদের ওপর যা নাজিল করা হয়েছে (অর্থাৎ কোরআন) তা অস্বীকার করল।’ (মুসনাদে আহমদ)
মনে রাখতে হবে, ইসলাম সব ধরনের কুসংস্কার ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং দুঃখ-কষ্ট নিয়ে প্রতারণার সব রূপকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করেছে। ইসলাম তার অনুসারীদের অন্তরে এই বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে যে আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউই গায়েব জানে না এবং উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা কারো নেই। একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো, সে একমাত্র আল্লাহর সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করবে, তার কাছেই নিজের সব বিষয় সোপর্দ করবে এবং সত্য ও বাস্তবতা জানার জন্য সেই সব শরয়ি দোয়া ও বৈধ উপায় অবলম্বন করবে, যেগুলো আল্লাহ তাআলা অনুমোদন করেছেন ও পছন্দ করেছেন। এটিই তার ঈমানের প্রমাণ এবং তার প্রতিপালকের প্রতি তার সত্য বিশ্বাসের নিদর্শন।
একই বিধান এআইয়ের ব্যাপারেও। যদিও এটি নিছক কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কোনো মানুষ নয়, মানুষের তৈরি অ্যালগরিদম, যা সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলে। যখন কেউ এটিকে ভবিষ্যৎ জানার মাধ্যম হিসেবে বিশ্বাস করে, তখন তা গণক বা জ্যোতিষীর মতোই হয়ে যায়। তাই এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে হাতের রেখা দেখা উচিত নয়। এমনকি মজার ছলেও এসব বিষয়ে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। কারণ শয়তান সূক্ষ্মভাবে মানুষের ঈমান হরণ করার জন্য ওত পেতে থাকে। ইসলামের দৃষ্টিতে একটি হারাম কাজকে বিনোদন হিসেবেও নেওয়া উচিত নয়।
ইসলামের বিধি-বিধানের ভেতরে থেকে এআইয়ের ব্যবহার নিঃসন্দেহে উপকারী। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাগ্য গণনা বা ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা করা ইসলামে নিষিদ্ধ।









