ছবিঘর

আমার বিয়েতে একদম সিম্পল সাজ নেব

নিউজ ডেস্ক৯ আগস্ট ২০২৫৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

নাটকের অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। একসময় গতানুগতিক সব ধরনের গল্পে নাটকেই তার উপস্থিতি মিলত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে, মানের দিকেই তার বেশি নজর। তাই নতুন কোনো কাজে যুক্ত হতে ভাবছেন বারংবার।

গল্পে নতুনত্ব ও চরিত্রে বৈচিত্র্য থাকলে তবেই কাজ করছেন। দুদিন ধরে অন্তর্জালে ইতিবাচক চর্চায় সামিরা খান মাহির একটি ছবি। ইমরাউল রাফাতের নাটক ‘বকুল ফুল’-এর দৃশ্য এটি। অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন কামরুল ইসলাম
‘বকুল ফুল’ নাটকে আপনার লুক, চরিত্রের প্রশংসা করছেন অনেকে।

কেমন লাগছে?
ভালো তো অবশ্যই লাগছে। রাফাত ভাই একদিন বললেন, ‘এ রকম একটা গল্প ভাবছি; কিন্তু এর জন্য অনেক কাজ করতে হবে, পড়াশোনা, প্রস্তুতি লাগবে।’ এ রকম সময় নিয়ে নাটকের কাজ তো আমাদের এখানে কমই হয়। সে জায়গা থেকে ‘বকুল ফুল’ দেখে যদি একজনও প্রশংসা করেন, তাতেই আমাদের শ্রমের সার্থকতা।

আর আমি মনে করি, এটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা চরিত্র।
কিন্তু নাটকটির ভিউ তুলনামূলক কম। কারণ কী?

এ রকম সিরিয়াস নাটকের ভিউ কমই হয়। রাফাত ভাইও এটা আগেই বলেছেন, ভিউ কেমন হবে, সেটা বিষয় না, আমাদের কাজটা ভালো হবে। সেটারই প্রমাণ পাচ্ছি।

যারাই দেখছেন, প্রশংসা করছেন। অনেকে ফোন করেও বাহবা দিয়েছেন। আসলে অনেক ভিউ আমিও চাইনি, চেয়েছি নিজেকে প্রমাণ করতে, নিজের সক্ষমতা দেখাতে।
চরিত্রটির জন্য কেমন প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল?

খুব বেশি সময় যে পেয়েছি, তাও না। নির্মাতার সঙ্গে মাস খানেক ধরে আলাপ হলো। এরপর সপ্তাহ খানেকের প্রস্তুতি। আমরা একটি মানসিক হাসপাতালে গিয়েছিলাম, সেখানকার রোগীদের পর্যবেক্ষণ করেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি। এটা কঠিন ছিল, কারণ চাইলেই মানসিক হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে পড়া যায় না। তার ওপর আমরা একেবারে সিরিয়াস কন্ডিশনের রোগীদের বিভাগে গিয়েছিলাম। শুটিংয়েও আমরা বাস্তবতার সর্বোচ্চ ছাপ রাখার চেষ্টা করেছি। নাটকে আমার প্রথম দৃশ্যে যে পোশাক, সেটা কিন্তু আসলে আরশের [আরশ খান] শার্ট। পাগলদের যেমন নিজের পোশাক থাকে না, অন্যের দিয়ে যাওয়া পোশাকে তাদের জীবন কাটে, সেটা বোঝানোর জন্য আরশের শার্ট পরেছি।

শিল্পীদের কাছে ব্যতিক্রম গল্প-চরিত্রের আবদার করেন অনেক ভক্ত, আবার সে রকম কাজ করলে প্রত্যাশিত সাড়া মেলে না। এটা নিয়ে কী বলবেন?

এখনকার মানুষ অনেক স্যাড আর ডিপ্রেসড। তাই দিনশেষে হাসি-ঠাট্টার নাটক দেখে মন হালকা করতে চায়। সে কারণে কমেডি নাটকের ভিউ বেশি। কিন্তু এ রকম সিরিয়াস নাটকের জন্য আমাদের তো অনেক পরিশ্রম করতে হয়, সেটার যখন ভিউ হয় না, তাতে তো খারাপ লাগেই। আরেকটু বেশি সাড়া পেলে তো ভালো লাগবেই। তবু ইটস ওকে।

দীপ্ত টিভির নতুন ধারাবাহিক ‘খুশবু’তে আপনাকে বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে। কেমন বিশেষ?

এতে আমি এক সেলিব্রিটির চরিত্রে অভিনয় করব। তার জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে। বিস্তারিত এখনই বলা বারণ।

অভিনয় দিয়ে আপনি তো পরিচিতি পেয়েছেন। বাস্তব জীবনযাপনে কি এই পরিচিতির প্রভাব থাকে?

শুটিং সেট থেকে বের হওয়ামাত্র ভুলেই যাই, আমি একজন অভিনেত্রী। এতটাই সাধারণ জীবনযাপন করি আমি। বাসার প্রয়োজনে বাজারে, দোকানে যাই। মাঝেমধ্যে খেয়াল করি, মানুষ আমাকে দেখে ফিসফিস করছে, আড় চোখে তাকাচ্ছে। পরে হঠাৎ খেয়াল আসে, আরে আমি তো মাস্ক পরিনি! এ রকম নরমাল লাইফ লিড করি আমি এবং এতেই আমার স্বাচ্ছন্দ্য।

কিছুদিন আগে একটি ব্রাইডাল ফটোশুট করেছেন। এমন ভারী পোশাকে বউ সাজতে ভালো লাগে?

একদমই না, জিরো পারসেন্ট। ৪০-৫০ কেজি ওজনের পোশাক-গয়না পরে ফটোশুট করা যে কত কঠিন! বিয়েতে তো বউরা বসে থাকে; কিন্তু আমাদের হাঁটাচলা করতে হয়, নানা জায়গায় দাঁড়িয়ে-বসে শট দিতে হয়। টানা ৯-১০ ঘণ্টা এগুলো পরে শুট করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই।

নিজের বিয়েতে এভাবে সাজবেন?

না। আমার বিয়েতে একদম সিম্পল সাজ নেব। যদি বিয়ে করি আরকি।

১ আগস্ট টিভিতে প্রচারিত হয়েছে চয়নিকা চৌধুরীর ‘একটি পুরনো ছবি’। এতে গুণী মডেল-অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। কেমন অভিজ্ঞতা হলো?

এ নাটকের শুটিংয়ে উনার সঙ্গে প্রথমবার দেখা। ওই যে সবাই বলেন, তিনি আইডল, সুপারমডেল, সবার আইকন। প্রথম দেখাতে আমিও বুঝতে পেরেছি, শি ইজ সামথিং লাইক দ্যাট। শুটিং সেটে বসে ওনার গল্প শুনছিলাম, ক্যারিয়ারের সঙ্গে তিনি সংসারও কিভাবে সামলে রাখেন, শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আরেকটা বিষয় হলো, শুটিংয়ে উনার শট শেষ হওয়ার পর পোশাক বদলে একদম পরিপাটি হয়ে বসে থাকেন তিনি। আমরা, অন্যরা সাধারণত শট দেওয়ার পর একটু ঝিমিয়ে পড়ি, শুয়ে থাকি। কিন্তু তিনি একদম ফিটফাট থাকেন। আমার প্রজন্মের সবাই তো উনাকে দেখে বড় হয়েছি। এখনো তিনি আগের মতোই সুন্দর।

নতুন আর কী করছেন?

বেশ কয়েকটি নাটক করলাম সম্প্রতি। দুদিন আগে আলোক হাসানের একটি নাটক করেছি, সঙ্গে শরাফ আহমেদ জীবন ভাই আছেন। এ ছাড়া মাবরুর রশীদ বান্নাহ, সকাল আহমেদ ও মহিদুল মহিমের নাটকও করেছি। সব মিলে ব্যস্ততার মধ্যেই আছি।