সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার প্রবাসী গৃহকর্মী দিপালী বেগমের (৩৪) পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়া পরিবার এখন একটাই দাবি জানাচ্ছে—দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দিপালীর ছোট বোন লাইজু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আপা আমাদের জন্যই সারা জীবন কষ্ট করেছে। বিদেশ থেকে এসে সব আমাদের দিত, নিজের কথা কখনো ভাবেনি।

এখন আমরা শুধু তার মরদেহটা দেশে ফেরত চাই।’
পরিবার সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হামরা এলাকায় কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় একটি ভবনে ইসরায়েলি বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী। পরে তাকে রফিক হারিরি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের বাসিন্দা দিপালী বেগম দিনমজুর শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে।
তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলায় মাকে হারিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে বড় হন তিনি। পড়াশোনার সুযোগ না পেলেও মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০১১ সালে জীবিকার তাগিদে লেবাননে পাড়ি জমান।
প্রবাসে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে ধীরে ধীরে পরিবারের হাল ধরেন দিপালী।
তার উপার্জিত অর্থেই ভাঙা ঘরের জায়গায় টিনের ঘর তৈরি হয়, ভাইবোনদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে আসে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষবার দেশে এসেছিলেন তিনি। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিয়ের চেষ্টা করা হলেও রাজি হননি। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আবার লেবাননে ফিরে যান—যেটিই ছিল তার শেষ যাত্রা। ঘটনার দিন সকালে ছোট বোনের সঙ্গে ইমোতে তার শেষ কথা হয়।
দিপালীর মৃত্যুর খবরে বড় বোন শেফালী বেগম ও ভাই ওবায়দুর ও সিকেন্দার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাবা শেখ মোফাজ্জল শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয়রা জানান, দিপালীর পাঠানো অর্থেই কোনোভাবে টিকে ছিল পরিবারটি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পৌঁছালে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দাফন সহায়তা, পরিবহন ব্যয় এবং এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।









