সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
প্রতিবছর আমরা ঋতুভিত্তিক আয়োজন করি। এবার শরৎ ঋতুকে নিয়ে আয়োজন করেছি। ‘বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ’ শিরোনামের এই আয়োজন সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন ফাতেমা-তুজ-জোহরা ম্যাডাম
আজ সুরবিহারের বর্ষপূর্তি।

কী কী আয়োজন থাকছে?
প্রতিবছর আমরা ঋতুভিত্তিক আয়োজন করি। এবার শরৎ ঋতুকে নিয়ে আয়োজন করেছি। ‘বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ’ শিরোনামের এই আয়োজন সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন ফাতেমা-তুজ-জোহরা ম্যাডাম।
তিনিও গান পরিবেশন করবেন। এবারের আয়োজনে শরিভত্তিক কিছু গানও থাকবে। যেমন ‘নীল আকাশের নিচে আমি’, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’ ইত্যাদি। আমাদের প্রচেষ্টা থাকে সব সময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার।
একটা গোমর সময় চলছে এখন। এই গোমরটা ভাঙা দরকার। আমাদের নিজস্বতা ফুটিয়ে তুলতে হবে। মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হবে। না হলে জাতি হিসেবে মেলে ধরা সম্ভব হবে না।
এবারের আয়োজন পঞ্চকবির গানও থাকবে।
আপনার একক পরিবেশনা থাকবে?
জানি না পারব কি না! আসলে মঞ্চে কাজ করতে হবে। আয়োজনটাও দেখাশোনা করতে হবে। এর মধ্যে কতটুকু সময় বের করতে পারব বুঝতে পারছি না। তবে গান পরিবেশন করার ইচ্ছা তো আছে।
সুরবিহারের বর্ষপূর্তিটা আসলে কবে?
জুলাই মাসে। তবে আমরা সেপ্টেম্বরে উদযাপন করছি। আসলে জুলাই মাস তো এখন আর উদযাপনের নয়। কতগুলো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কত পরিবার শোকে কাতর। তার মধ্যে তো আর উদযাপন করা যায় না। সেই জন্যই সেপ্টেম্বরে করছি।
পুনরায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান হয়েছেন। নিশ্চয়ই বিভাগটিকে নিয়ে নতুন কিছু পরিকল্পনা করেছেন?
দায়িত্ব পাওয়ার পর বর্ষ উদয়াপন করেছি, নবান্ন উদযাপন করেছি। ভিসি স্যারের কাছে অডিটরিয়াম ঢেলে সাজানোর আবেদন করেছিলাম। তিনি সেটা পাস করেছেন। আমরা আলাদা একটা স্টুডিও করেছি। যেটা সম্পূর্ণ সাউন্ডপ্রুফ, পেশাদার স্টুডিও। এ ছাড়া দেয়ালে সুন্দর সুন্দর কিছু আল্পনা করেছি। এখন অন্য বিভাগের ছেলে-মেয়েরা সংগীত বিভাগে এসে ছবি তোলে, সময় কাটায়। এটাই তো চেয়েছিলাম। আসলে এই সময়ের ছেলে-মেয়েরা একটু অস্থির। তারা অল্পতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। এতে ক্ষতি হয়। আমি চেয়েছে তাদের মধ্যে সংগীত পৌঁছে দিতে। গান-কবিতা কিন্তু মেডিটেশনের অন্যতম উপকরণ। মাইন্ড কন্ট্রোল করে। আপনি দেখেন, জগন্নাথের ছেলে-মেয়েরা কিন্তু খুব গোছানো। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের ছেলে-মেয়েরা বেশ শৃঙ্খল। বলছি না, আমিই সেটা করেছি। তবে চেষ্টা তো আছে।
এই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব, সুরবিহার পরিচালনা, সেই সঙ্গে নিজের গান—এত কিছু সামলাচ্ছেন কিভাবে?
আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী। যে কাজগুলো করছি সবই সংস্কৃতি রিলেটেড। এমন না যে আমার পেশা গানের কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই অন্য সাবজেক্ট। কাজকে সব সময় ভালোবেসেছি। আমরা যাঁরা সংগীত সাধনায় আছি, দেখবেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন, আমরা বুড়ো হই না কেন? বয়স তো একটা সংখ্যা মাত্র। ঘাত-প্রতিঘাত কোনোটাই কিন্তু আমাদের ছুঁতে পারে না। আমরা অল্পতে ভেঙেও পড়ি না। কঠোর অধ্যবসায় আছে আমাদের। প্রচুর পরিশ্রমও করতে পারি; বরং যেদিন কাজ থাকে না সেদিন কিন্তু খারাপ লাগে। সময় কাটে না।
নিজের গান নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?
দুর্গাপূজায় একটা গান আসবে। তা ছাড়া নবমীর দিন শিল্পকলায় একক পরিবেশনা আছে। বলে রাখি, এই প্রথম কিন্তু বাংলাদেশ শিল্পকলায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজন হচ্ছে। আমাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ই আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই উদ্যোগকে আমি অ্যাপ্রশিয়েট করি। আশা করছি, আগামী বছরগুলোতে এটা অব্যাহত থাকবে।









