জাতীয়

আপিলে যাচ্ছে সিফাতের পরিবার

নিউজ ডেস্ক৪ মার্চ ২০১৭৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে স্বামী মো. আসিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে দেওয়া আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিফাতের পরিবার।

 

আদালতের এ রায়ে পরিবার সন্তুষ্ট নয় জানিয়ে সিফাতের বাবা আমিনুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। কারণ আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।’

 

আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সিফাতের বাবা।

 

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩-এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদ ওয়াহিদা সিফাতকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে স্বামী মো. আসিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মামলায় অপর তিন আসামি আসিফের বাবা মো. হোসেন রমজান, মা নাজমুন নাহার নাজলি ও প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক মো. জবাইদুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

আমিনুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত বিচার পাইনি। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হবে। ময়নাতদন্তে সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করা সত্ত্বেও আদালত এটিকে আত্মহত্যার প্ররোচনা গণ্য করে রায় দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

 

সিফাতের বাবা বলেন, যদি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা হিসেবেও ধরা হয়, তাতেও আসামিপক্ষ আত্মহত্যার পক্ষে কোনো যুক্তি দেখাতে পারেনি, সে ক্ষেত্রে সিফাতের শ্বশুর-শাশুড়ি কীভাবে খালাস পান?

 

লিখিত বক্তব্যে সিফাতের বাবা আরো বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সোয়া ১০টায় সিফাতের শ্বশুর আমার ছেলেকে (সিফাতের ভাই) ফোন করে বলে, সিফাতকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, তোমরা তাড়াতাড়ি রাজশাহীতে চলে আসো। এর পাঁচ-সাত মিনিটের পর আবার ফোন করে বলে সিফাত আত্মহত্যা করেছে। ওই রাতেই আমরা হাসপাতালে গিয়ে সিফাতের মৃতদেহে নাকে-মুখে প্রচুর রক্ত দেখতে পাই। এরপর থুতনি ও মাথার পেছনে জখমের চিহ্ন দেখে আমরা বুঝতে পারি সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। সিফাতকে রংপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করার আগেই আমরা জানতে পারি ডাক্তার ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা করেছে মর্মে রিপোর্ট দিয়েছেন।’

 

‘সেই রিপোর্ট বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় কোর্টের নির্দেশে মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। রংপুর মেডিকেলের তিনজন ডাক্তার সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ২০১৬ মামলার আইও ছেলে, ছেলের বাবা, মা ও প্রথম ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট প্রদান করে।’

 

আমিনুল ইসলাম আরো বলেন, আসামিপক্ষের কেউ সিফাতের আত্মহত্যার পক্ষে সাক্ষী দেখাতে পারেননি। এমনকি তার বাবা, মা আদালতে বলেছেন তাঁরা তার ছেলের কাছ থেকে শুনেছেন সিফাত আত্মহত্যা করেছে। যদিও সেই সেময় তাঁরা সেই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

 

পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর আপিল করা হবে বলে জানান সিফাতের বাবা।

 

সংবাদ সম্মেলনে সিফাতের ভাই কে এম আসিফুল ইসলামসহ সিফাতের সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: এনটিভি