অর্থ ও বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক লেনদেনে শক্তিশালী হবে রুপি

নিউজ ডেস্ক১৫ জুলাই ২০২২৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্কঃ

বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ানোর জেরে ডলার শক্তিশালী হলেও ব্যাপক দরপতন হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে মোট ২৬ বার রুপির দরপতন হয়েছে। তাই এবার রাশিয়ার কৌশল কাজে লাগাতে চায় ভারতও। দেশটির শীর্ষ ব্যাংক ঘোষণা করেছে, রুপির মাধ্যমেই যাতে আন্তর্জাতিক লেনদেন করা যায়, তেমন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রুপির ব্যবহারসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে, বিশেষ করে রপ্তানিতে গতি আনতেই এ উদ্যোগ। ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যসহ সার্বিক আন্তর্জাতিক ব্যবসা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরবিআই বলছে, আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে যারা যুক্ত, তাদের মধ্যে ভারতীয় মুদ্রায় লেনদেনের ইচ্ছা কিছুদিন আগে থেকে দেখা যাচ্ছিল। সেটা মাথায় রেখেই এ নতুন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে বর্তমান ব্যবস্থার পাশাপাশি ইনভয়েসিং, পেমেন্ট এবং আমদানি বা রপ্তানির সেটলমেন্ট ভারতীয় মুদ্রার মাধ্যমে করা যাবে।

গত সপ্তাহেই শীর্ষ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এসংক্রান্ত একটি আলোচনা করেছে ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই)। এসবিআই জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক লেনদেনে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ সময়ে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ভারতীয় মুদ্রার মাধ্যমে বিদেশি লেনদেন শুরুর জন্য উদ্যোগী হওয়া যেতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থায়ীভাবে ভারতীয় রুপির গুরুত্ব আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়াতে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। ভারতকে বেশি করে উৎপাদনশীল দেশ হয়ে উঠতে হবে। এখন শুরুতে রুপি সবার কাছে মান্যতা না পেলেও ধীরে ধীরে ভারতের উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো রুপিকে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেবে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার নজির দেন। কিছুদিন আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেন, তাঁদের কাছ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস নিতে হলে ইউরোপের দেশগুলোকে ইউরো বা ডলার দিলে হবে না, দিতে হবে রাশিয়ার মুদ্রা রুবল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুতিন এ দাবি জানাতে পেরেছেন কারণ ইউরোপের দেশগুলোতে ৪০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস যায় রাশিয়া থেকে। একইভাবে ভারতকে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে যেসব দেশ ভারতের পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, তারা রুপি ব্যবহারে আগ্রহী বা বাধ্য হয়।

এদিকে আরেক দফা কমে গেছে রুপির দাম। গত বুধবার বাজারে এক ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম দাঁড়িয়েছে ৭৯.৮১, যা সর্বকালের সর্বনিম্ন দরপতনের রেকর্ড। ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতীয় মুদ্রা প্রায় ৪ শতাংশ অবমূল্যায়নের সম্মুখীন হয়। অন্যদিকে আমেরিকার নতুন অর্থনৈতিক নীতির কারণে ডলারের সঙ্গে অন্যান্য বৈশ্বিক মুদ্রার দরের বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই মূল্যস্ফীতির জন্য সমস্যায় রয়েছে ভারতীয়রা। দেশটির অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রুপির এই দরপতনের নেপথ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও একাধিক বাহ্যিক কারণ থাকতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবও আছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ভারতে চলমান মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি, স্টক ও বন্ড বাজার ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে আমদানির তুলনায় বিনিয়োগ কমছে।

 

সুত্রঃ কালের কন্ঠ