আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম কমছে।
বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি দুর্বল হওয়ায় চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমার পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির জানিয়েছে, ২০১৯ সালে পণ্যটির গড়দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ ডলার এবং ২০২০ সালে তা কমে ৬৫ ডলারে ঠেকবে।

বিশ্ববাজারে তেলের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দামও কমছে। চলতি বছর এলএনজির গড় দাম (জাপানে সরবরাহের ক্ষেত্রে) প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থারমাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ৭ ডলার ৪ সেন্টে নামতে পারে, যা ২০১৮ সালে ছিল ১০ ডলার ৪ সেন্ট।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে। গ্যাসও আমদানি শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম কমলেও দেশের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার।
অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারত গ্যাসের দাম কমিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কমোডিটি প্রাইস ডেটা’ অনুযায়ী, গত এপ্রিলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ব্রেন্টের গড়দাম ব্যারেলপ্রতি ছিল ৭১ ডলার ২ সেন্ট। জুনে তা ৭ ডলার ৯ সেন্ট কমে ৬৩ ডলার ৩ সেন্টে বিক্রি হয়। অপরদিকে এপ্রিলে এলএনজির গড়দাম এমএমবিটিইউ ছিল ১০ ডলার ৩ সেন্ট, জুনে তা কমে ৯ ডলার ৯ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবারের লেনদেনে জ্বালানি তেল ব্রেন্টের গড়দাম ব্যারেলপ্রতি ছিল ৬৬ ডলার ৬৮ সেন্ট। বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের পরিচালক আইহান কস বলেন, পণ্যদ্রব্যের মূল্যের দৃষ্টিভঙ্গি নীতিগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে তেলের জন্য।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নির্ভর করবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক নীতির ওপর। এরমধ্যে রয়েছে, ওপেকভুক্ত ও রাশিয়াসহ এর অংশীদার দেশগুলোর উৎপাদন কমানো বা বাড়ানোর ওপর। পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জ্বালানি নির্গমন নীতিমালার ব্যবহার।
২০১৮ সালের শেষের দিকে দাম কমার পর, এ বছরের শুরু থেকেই তেলের দাম ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জ্বালানিজাতীয় পণ্য যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার দাম ২০১৮ সালের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা-সরবরাহে ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে দাম কাক্সিক্ষত মাত্রায় বাড়াতে অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজভুক্ত (ওপেক) দেশগুলো পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন কমানোর চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে এ চুক্তির মেয়াদ আরও নয় মাসের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওপেক। এর পরপরই জ্বালানি পণ্যটির বাজার ভারসাম্য ফেরানোর পথে বড় একটি অর্জন। চলতি বছরের জুনে ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্মিলিত উত্তোলন বিগত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।
চলতি বছরের জুনে ওপেকভুক্ত ১৪ দেশে সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ৯৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল কম। ২০১৪ সালের পর এটাই ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে কম মাসভিত্তিক উত্তোলনের পরিমাণ।
ওপেকের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়। চলতি বছরের জুনে দেশটির কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৯৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় দৈনিক এক লাখ ব্যারেল বেশি।
তবে জুনে আগের তুলনায় বাড়লেও সৌদি আরব এখনও ওপেকের চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সীমা মেনে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। ওয়াশিংটনের চাপের কারণে মে মাসের তুলনায় জুনে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ওপেকভুক্ত দেশ ইরান ও ভেনিজুয়েলার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জের ধরে রফতানি বাজার সংকুচিত হয়ে আসায় জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমাতে বাধ্য হয়েছে দুটো দেশই।









