সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশব্যাপী মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন, বাসে আগুন দিয়েছেন। উচিত ছিল, জাতির কাছে এ জন্য ক্ষমা চাওয়া।

তা না করে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছেন। আগে মানুষ হত্যার জবাব দেন, পরে প্রস্তাব নিয়ে কথা হবে। ’
বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কোথায় আছি এখন? ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এখন তিন বছর হয়ে গেছে। আমরা এখন আর মধ্যে নাই। এখন ওরা যদি মধ্যবর্তী বলে থাকে, তবে বোধ হয় পরবর্তী ইলেকশনের কথা বলেছে। ’
গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক হাঙ্গেরি ও মরোক্কো সফরের বিষয়ে তথ্য জানাতে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী এক ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্যে তাঁর সাম্প্রতিক হাঙ্গেরি ও মরোক্কো সফরের নানা তথ্য তুলে ধরেন। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ভারত সফর ও তিস্তা চুক্তি, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর, হাঙ্গেরি যাত্রাকালে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাব, গ্রিন প্ল্যানেট ফান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা, জাতীয় সংসদের মূল নকশা সংগ্রহ করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
গত রবিবার হাঙ্গেরি যাত্রাপথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে বিমানটি তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার পর বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা বিমান কেনা হবে।
আলাদা বিমান কেনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জন্য নতুন এয়ারক্রাফট কেনার কোনো প্রয়োজন নাই। আমরা নতুন এয়ারক্রাফট কিনেছি, দেশের জন্য কিনেছি, কারো ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়। এখন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা এয়ারক্রাফট কেনা—এই বিলাসিতা করার মতো সময় আমাদের আসেনি। কারণ গরিবের ঘোড়া রোগ না হওয়াই ভালো। ঘোড়াকে খাওয়াতে, লালনপালন করতে যথেষ্ট খরচ লাগে। এটার প্রয়োজন নাই, আমি চাইও না। যে প্লেনে আমার দেশের সাধারণ মানুষ চলাচল করবে, দেশের মানুষ যাচ্ছে, যাত্রী যাচ্ছে, সেখানে যদি আমার নিরাপদ বোধ না থাকে, তাহলে আমার আলাদা প্লেন নিয়ে কী লাভ? আমি মানুষের সঙ্গে চলি, মানুষের জন্য রাজনীতি করি এবং করব। ’
তাঁকে বহনকারী বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটির পেছনে নাশকতার আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে কবিতার ভাষায় শেখ হাসিনা বলেন, “‘জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য, বুঝেছে দুর্বৃত্ত’। এটা একটা যান্ত্রিক দুর্যোগ ছিল, আর কিছু নয়। হয়তো যান্ত্রিক কিছু একটা হয়েছে। আমি মনে করি…এটা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যাক, দুর্ঘটনা ঘটেনি। সহি সালামতে বেঁচে আছি, আপনাদের সামনে আছি। দেশবাসীকে শুধু বলব, তাদের কাছে দোয়া চাই। ”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশে হত্যাকারীকে পুরস্কৃত করা হয়, বিচার না করে। যে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী করা হয়। সে দেশে কার জীবন নিরাপদ? আমার তো পুরো পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। আমরা দুই বোন বিদেশে থাকায় বেঁচে গেছি। এমন একটা সময়ে দেশে ফিরেছি, যখন খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছে, পার্লামেন্টে বসানো হয়েছে, মন্ত্রী করা হয়েছে। কাজেই এ ধরনের একটা পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তো আমি এ দেশে এসেছি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নেরই লক্ষ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন এবং করে যাবেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাক্সিডেন্ট তো হয়ই। ব্রাজিলে কী হলো। ফুটবল প্লেয়ারসহ প্লেন অ্যাক্সিডেন্ট করল। অ্যাক্সিডেন্ট অ্যাক্সিডেন্টই, এ জন্যই অ্যাক্সিডেন্ট। এটাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ’ ‘তবে অ্যাক্সিডেন্ট যান্ত্রিক ত্রুটিতেও হতে পারে, আবার মনুষ্যসৃষ্ট কারণেও হতে পারে’। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে তাঁকে নিয়ে বিএনপি জোটের নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান সময়ে ওই জোট নেতাদের বক্তব্য মিলিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।
আসন্ন ভারত সফরে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের চুক্তির সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারত সফরে কোনো শর্ত দিয়ে যাচ্ছি না। তবে হ্যাঁ, যেহেতু আমাদের ৫৪টা নদী এখান দিয়ে প্রবাহিত। সবচেয়ে কঠিন যেটা ছিল গঙ্গার পানি। আমি ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন এ গঙ্গার পানি বণ্টনে চুক্তি করেছি। আর তিস্তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা আশাবাদী। তবে ওটা নির্ভর করে তারা কিভাবে নেবে। এর মধ্যে আমরা নদী ড্রেজিং করে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। কাজেই আমাদের মতো আমরা কাজগুলো করে যাচ্ছি। আর আমাদের দুই দেশের মধ্যে কমিশন আছে তারা আলাপ-আলোচনা করছে যে তিস্তা শুধু নয়, আমাদের তিস্তাসহ যে ৫৪টা নদী, এ নদী নিয়ে আলোচনা চলছে, চলতে থাকবে। এটা হলো ব্যাপার। ’
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেখানকার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমারের যে ঘটনা সেটা যদিও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় এর পরও এখানে আমাদের দিক থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলা হয়েছে। আমাদের বর্ডার গার্ড তারা যথেষ্ট সজাগ আছেন। তবে কিছু ঘটনা এমন অমানবিক ঘটে যায়, যখন মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে তখন তাদের আশ্রয় না দিয়ে উপায় থাকে না। এটা হলো বাস্তবতা। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এর জন্য দায়ী, মাত্র কয়েকটি লোক। প্রথমে যারা মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। দোষ দিতে হলে যারা প্রথমে এই ঘটনার সূত্রপাত করেছিল, যারা ওই বর্ডার গার্ডকে হত্যা করল, তাদের ব্যাপারে আরো চিন্তাভাবনা করা উচিত। তারা কোথায় আছে, কিভাবে আছে, তাদের ধরে দেওয়া উচিত। কারণ এদের কারণে আজকে হাজার হাজার নারী-শিশু, সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক যে সামান্য কয়েকটা লোকের জন্য আজকে হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। তারা কী সেটা আমি দেখতে চাই না। তারা তো মানুষ। তারা কষ্ট পাচ্ছে। এটাই হচ্ছে সব থেকে চিন্তার বিষয়। ’
রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাদের জন্য হচ্ছে? কারা করছে? এ বিষয়ে আমার মনে হয় বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরো সচেতন হওয়া উচিত। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এই বিষয়ে বিশ্বনেতাদের আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হওয়া উচিত। তারা যদি এদিকে এসে থাকে, আমি ইতিমধ্যেই আমাদের ইনটেলিজেন্সকে বলে দিয়েছি তাদের খুঁজে বের করা হোক। যদি এখানে এসে থাকে, আমরা তাদের শেল্টার দেব না। আমরা তাদের ধরে মিয়ানমারের হাতে তুলে দেব। ’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর প্রস্তাব নিয়ে এত তোলপাড় করার কী আছে? যে (খালেদা জিয়া) এ দেশের স্বাধীনতায়ই বিশ্বাস করেন না। ’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) নির্দেশে দেশব্যাপী মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। তাঁর তো উচিত ছিল, জাতির কাছে এ জন্য ক্ষম চাওয়া। তা না করে, এখন তিনি প্রস্তাব দিচ্ছেন। আগে মানুষ হত্যার জবাব দেন, পরে প্রস্তাব নিয়ে কথা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ঠিক আছে, উনার প্রস্তাব উনি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়ে দিন। তিনিই (রাষ্ট্রপতি) সিদ্ধান্ত নেবেন, কী করবেন। আমাদের এ বিষয়ে কিছু করার নেই। ’
বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কোথায় আছি এখন? ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এখন তিন বছর হয়ে গেছে। আমরা এখন আর মধ্যে নাই। ক্রস করে গেছি। এখন ওরা যদি মধ্যবর্তী বলে থাকে, তবে ওরা বোধ হয় পরবর্তী ইলেকশনের কথা বলেছে। স্বপ্ন দেখা ভালো, স্বপ্ন দেখা ভালো। ’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক তহবিল ‘গ্রিন প্লানেট ফান্ড’ এ কোনো অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেটা আমি লক্ষ করে দেখেছি, আসলে অনেক বেশি প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে সহযোগিতাটা কমই পাওয়া যায়। আমেরিকা তো সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। সবচেয়ে বেশি দূষণ তারা করে। তাদের যে ডেভেলপমেন্ট হওয়ার হয়ে গেছে। এখন তারা কাউকে পাত্তা দিতে চায় না। এটা হলো বাস্তবতা। প্রতিশ্রুতি অনেক পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা খুব একটা বেশি আসে না। তার পরও আমাদের চেষ্টা আছে। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, দাবি উঠছে। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইউরোপের কিছু দেশ থেকে কিছু কিছু সহযোগিতা পেয়েছি। কিন্তু বড় দেশ যারা তারা কিন্তু খুব একটা হাত খোলে না। আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তো সরাসরি বলেই দিলেন। এখানে জাতিসংঘ যেহেতু এর সঙ্গে জড়িত, আমরা জাতিসংঘের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা এবং সহযোগিতা যাতে আসে সে চেষ্টা করে যাব। ’ যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর কী নীতি নেন সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে আলোচনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমি। ফলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। আর অবশ্যই সহযোগিতা বাড়বে, আলোচনা তো হবেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনারা জানেন যে ট্রেনিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু বিনিময় করি। কাজেই এসব বিনিময় তো থাকবেই, সব দেশের সঙ্গেই থাকবে। আর ভারত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সহযোগিতা করেছিল সেটাও আপনাদের মনে থাকা উচিত। তাদের ডিফেন্স ফোর্স কিন্তু আমাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। সেটা ভুলে গেলে চলবে না। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আলাপ আলোচনা করেছি যে আমাদের ট্রেনিংয়ের বিষয়ে, বিভিন্ন বিষয়ে কিভাবে সহযোগিতা করা যেতে পারে, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ’
ভারতের বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল প্রদর্শনে পাঁচ কোটি টাকা ফি ও বাংলাদেশে ভারতের চ্যানেল প্রদর্শনে মাত্র দেড় লাখ টাকা ফি প্রদান করতে হয়, এমন ফি বৈষম্য নিরসনে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে তো কেবল অপারেটররাই তো সম্ভবত এগুলো হায়ার করে। এখন ইন্ডিয়ান যারা তারা নেয় না (বাংলাদেশের চ্যানেল), কিন্তু আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়ি কেন? আমারও প্রশ্ন ওখানে যদি পাঁচ কোটি টাকা ফি দিতে হয়, তো এখানে মাত্র দেড় লাখ টাকা কেন? এ ফি কে নির্ধারণ করে, আমি তো সেটাই জানি না। ’ এ সময়ে সিনিয়র একাধিক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেন। এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার এত ডিটেইলস জানা ছিল না যে এ রকম এত বিরাট বৈষম্য। এগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। ’
জাতীয় সংসদের মূল নকশা বিদেশ থেকে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন স্থপতি লুই আই কানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি স্থাপত্য সৃষ্টি। অনেকে এটা সম্পর্কে জানতে চান। আমরা উদ্যোগ নিয়ে মূল নকশার চারটি কপি বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। আমরা এটাকে আর্কাইভে দেব, প্রদর্শনের ব্যবস্থা করব। জাতীয় সংসদে এটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে মাননীয় স্পিকারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আপাতত এটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে এবং এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক যা উন্নয়ন করা দরকার তা আমরা করব। ’
সূত্র: কালের কন্ঠ









