লাইফ স্টাইল

অফিসে কাজের ফাঁকে হালকা ক্ষুধা মেটাতে যা খাবেন

নিউজ ডেস্ক২ নভেম্বর ২০২৪৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

অফিসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে করতে হালকা ক্ষুধা অনুভব হওয়া স্বাভাবিক। কাজের ব্যস্ততার মাঝে স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর কিছু খাওয়া প্রয়োজন, যা সহজে বহন করা যায় এবং কাজের ফাঁকেই দ্রুত খাওয়া যায়। শুকনা খাবারগুলো এ ক্ষেত্রে ভালো সমাধান হতে পারে। এগুলোতে পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় শরীরে এনার্জি বাড়ায়, মনোযোগ ধরে রাখে এবং ক্ষুধাও মেটায়।

এখানে এমন কিছু পুষ্টিকর শুকনা খাবারের তালিকা দেওয়া হলো, যা অফিসের জন্য উপযুক্ত।
বাদাম
বাদামে প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। কাজের মাঝে অল্প কিছু কাজু, আখরোট, বা চিনাবাদাম খেলে শরীরে এনার্জি বজায় থাকে। এর মধ্যে আখরোট ও কাজু মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং চিনাবাদাম হাড়ের জন্য ভালো।

কিশমিশ ও শুকনা খেজুর
কিশমিশ ও খেজুর প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি এবং এতে থাকা ফাইবার, আয়রন ও ভিটামিন শরীরকে সতেজ রাখে। কিশমিশ দ্রুত শক্তি জোগায়, আর খেজুরে থাকা খনিজ উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

চিড়া এবং মুড়ি
চিড়া ও মুড়ি খুবই জনপ্রিয় শুকনা খাবার, যা কম ক্যালরির পাশাপাশি দ্রুত ক্ষুধা মেটায়। এতে হালকা করে বাদাম বা কিশমিশ মিশিয়ে নিলে এটি আরো পুষ্টিকর হয়।

চিড়াতে অল্প চিনি বা মধু যোগ করলে এটি স্বাস্থ্যকর মিষ্টি খাবার হিসেবেও খাওয়া যায়।
বিস্কুট ও চানাচুর
অফিসে ক্ষুধা লাগলে বিস্কুট ও চানাচুর হতে পারে সহজ ও পুষ্টিকর খাবার। হোল-গ্রেইন বা ওটস বিস্কুট দ্রুত খাওয়ার জন্য ভালো এবং এতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা হালকা ক্ষুধা মেটাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, চানাচুর মসলা ও ডাল-ভাজা মিশ্রণে তৈরি, যা স্বাদে বৈচির্ত্য এনে দেয় এবং অল্প পরিমাণে খেলে তৃপ্তি মেলে।

ভুট্টার খই
ভুট্টার খই (পপকর্ন) স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স হিসেবে খুবই জনপ্রিয়।

এতে ফাইবার থাকে যা হজমের সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে বেশি মসলাযুক্ত পপকর্ন পরিহার করে স্বাদ অনুযায়ী হালকা লবণযুক্ত খই রাখা ভালো।
মিক্সড সিডস (মিশ্র বীজ)
মিষ্টি কুমড়া, সূর্যমুখী বা চিয়া বীজের মিশ্রণ অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর। এগুলো প্রোটিন, আয়রন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের উৎস যা শরীরকে শক্তি জোগায়। কাজের মাঝে অল্প কিছু সিডস খেলে পেট ভরা থাকে এবং মনোযোগ ধরে রাখা যায়।

শুকনা ফল (ড্রাই ফ্রুট)
শুকনা আপেল, আনারস, আম ইত্যাদি ফলের শুকনা টুকরা খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রাকৃতিক চিনির পাশাপাশি প্রচুর ফাইবার থাকে, যা হজমে সহায়ক এবং এনার্জি জোগায়। তবে প্রক্রিয়াজাত শুকনা ফলে চিনি মেশানো হতে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে।

ডার্ক চকোলেট
কাজের মাঝে ক্লান্তি কাটাতে ও মনোযোগ বাড়াতে ডার্ক চকোলেট খাওয়া যেতে পারে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। কাজের মাঝে অল্প পরিমাণ ডার্ক চকলেট মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

রোস্টেড ছোলা
রোস্টেড ছোলা প্রোটিন ও ফাইবারের একটি দারুণ উৎস। এটি খুবই কম ক্যালরির হওয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে গণ্য। অফিসের ব্যস্ততার মাঝে এটি দ্রুত খাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

ওটমিল বা ইনস্ট্যান্ট ওটস
ওটমিল তৈরি করা সহজ এবং এতে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন রয়েছে। অফিসে কাজের ফাঁকে হালকা করে গরম পানি মিশিয়ে ইনস্ট্যান্ট ওটস তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে। এতে ফল বা বাদাম মিশিয়ে নিলে স্বাদও বাড়ে এবং পুষ্টিগুণও।

অফিসের ব্যস্ততাকে সুষ্ঠুভাবে সামলে কাজের ফাঁকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। এই শুকনা খাবারগুলো সহজে বহনযোগ্য এবং দ্রুত খাওয়ার উপযোগী। এগুলো স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে কাজের মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক এবং শরীরের এনার্জি ধরে রাখতে সহায়তা করে।

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ