সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

(সুরা : হজ, আয়াত : ৩২)
এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে আল্লাহর নিদর্শন—যেমন মসজিদ, রমজান, নামাজ ইত্যাদির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করা তাকওয়ারই একটি অংশ।
শিশুদের মসজিদের প্রতি আকৃষ্ট করা : শিশুরা স্বভাবতই রং, আলো ও সৃজনশীল জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাই রমজান উপলক্ষে মসজিদকে একটু সৃজনশীলভাবে সাজানো হলে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে সেখানে যেতে আগ্রহী হবে।
প্রথমত, মসজিদের দেয়ালে রমজানের প্রতীকী বিভিন্ন নকশা ব্যবহার করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, মসজিদের প্রবেশপথকে সুন্দরভাবে সাজানো যেতে পারে। দরজার ওপরে ‘স্বাগতম হে রমজান’ বা ‘রমজানের মাসে মসজিদে আসো’ এমন বার্তা লেখা ব্যানার লাগানো যেতে পারে।
তৃতীয়ত, মসজিদের দেয়ালে ছোট ছোট পোস্টার লাগানো যেতে পারে, যেখানে কোরআনের আয়াত, হাদিস অথবা রমজানের ফজিলত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বার্তা থাকবে। শিশুদের দিয়ে এসব পোস্টার তৈরি করানো হলে তারা আরো বেশি উৎসাহিত হবে।
শিশুদের ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা : শুধু সাজসজ্জাই যথেষ্ট নয়, বরং এমন কিছু কার্যক্রমও দরকার, যা শিশুদের ইবাদতের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
১. নামাজের চার্ট তৈরি করা : মসজিদে বা ঘরে একটি বড় চার্ট বানানো যেতে পারে, যেখানে শিশুদের নাম লেখা থাকবে। তারা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে সেই দিনের ঘরে একটি সবুজ চিহ্ন বা স্টিকার লাগাবে। মাস শেষে যে বেশি নামাজ পড়েছে তাকে ছোট পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুদের মধ্যে আনন্দময় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।
২. কোরআন তিলাওয়াতের আসর : শিশুদের জন্য প্রতিদিন বা সপ্তাহে কয়েক দিন ছোট কোরআন তিলাওয়াতের আসর করা যেতে পারে। সেখানে তারা পালাক্রমে কোরআন পড়বে এবং বড়রা তাদের ভুল সংশোধন করে দেবে। এতে তারা কোরআনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
৩. ছোট ইসলামিক প্রতিযোগিতা : রমজান উপলক্ষে শিশুদের জন্য ছোট ছোট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। যেমন—কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামিক কুইজ, দোয়া মুখস্থ প্রতিযোগিতা বা সুন্দর ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা। এতে তারা আনন্দের সঙ্গে দ্বিনের জ্ঞান অর্জন করবে।
৪. দান করার অভ্যাস গড়ে তোলা : মসজিদে একটি বিশেষ দানবাক্স রাখা যেতে পারে, যেখানে অর্ধচন্দ্র বা রমজানের প্রতীক আঁকা থাকবে। শিশুদের উৎসাহিত করা যেতে পারে, যাতে তারা সামান্য হলেও দান করে। এতে তারা ছোটবেলা থেকেই দানশীলতা শিখবে।
৫. শিশুদের দিয়ে সাজসজ্জা করানো : মসজিদের সাজসজ্জায় শিশুদের অংশগ্রহণ করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা নিজের হাতে যদি চাঁদ-তারা বানায় বা পোস্টার আঁকে, তাহলে সেই মসজিদের প্রতি তাদের ভালোবাসা আরো বেড়ে যাবে।
৬. শিশুদের জন্য বিশেষ ইফতার আয়োজন : মসজিদে শিশুদের জন্য ছোট একটি ইফতার আয়োজন করা যেতে পারে। সেখানে তারা একসঙ্গে বসে ইফতার করবে এবং বড়রা তাদের রমজানের গল্প ও শিক্ষা শোনাবে। এতে তারা রমজানের আনন্দ গভীরভাবে অনুভব করবে।
শিশুদের জন্য ঘর সাজিয়ে রমজানের পরিবেশ সৃষ্টি করা : শুধু মসজিদ নয়, ঘরেও রমজানের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা দরকার। পরিবারের সবাই মিলে ঘরে ছোট ছোট রমজান ডেকোরেশন করা যেতে পারে। যেমন—কাগজের চাঁদ-তারা, লণ্ঠন, অথবা রমজানের ক্যালেন্ডার। ঘরে একটি ‘ইবাদত কর্নার’ তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে নামাজের জায়নামাজ, কোরআন শরিফ এবং দোয়ার বই থাকবে। শিশুদের শেখানো যেতে পারে যে প্রতিদিন কিছু সময় সেখানে বসে কোরআন পড়তে হবে বা দোয়া করতে হবে। অতএব, রমজান শুধু বড়দের জন্য ইবাদতের সময় নয়, এটি শিশুদের জন্যও ঈমান ও নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণের এক মহান সুযোগ। যদি আমরা একটু পরিকল্পনা করে মসজিদ ও ঘরে রমজানের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করি, তবে শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মসজিদে আসতে চাইবে এবং ইবাদতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। তাই তাদের হৃদয়ে যদি ছোটবেলা থেকেই মসজিদের প্রতি ভালোবাসা, কোরআনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইবাদতের আনন্দ প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে আরো সৎ ও আলোকিত।









