ধর্ম

পরিবার থেকে সমাজ : ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَ اٰتِ ذَاالۡقُرۡبٰی حَقَّهٗ وَ الۡمِسۡكِیۡنَ وَ ابۡنَ السَّبِیۡلِ وَ لَا تُبَذِّرۡ تَبۡذِیۡرًا ﴿۲۶﴾

সরল অনুবাদ

(২৬) তুমি আত্মীয়-স্বজনকে তার প্রাপ্য প্রদান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় করো না।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা বনি ইসরাঈলের এ আয়াতটি সামাজিক ন্যায়বিচার, পারিবারিক দায়িত্ব ও অর্থনৈতিক শালীনতার একটি সমন্বিত নির্দেশনা। আয়াতটি আদেশ, নিষেধ এবং নৈতিক ভারসাম্য; এই তিনটিকে একসঙ্গে সামনে আনে।

আল্লাহ তাআলা প্রথমেই আত্মীয়-স্বজনের কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ সমাজের সবচেয়ে নিকটবর্তী ও স্বাভাবিক দায়িত্বের ক্ষেত্র হলো পরিবার ও আত্মীয়তা। এখানে ‘তার প্রাপ্য প্রদান কর’ বলা হয়েছে, দয়া বা অনুগ্রহ কর, এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ আত্মীয়দের প্রতি সাহায্য, ভরণ-পোষণ, খোঁজখবর ও সহযোগিতা কোনো ঐচ্ছিক দান নয়; বরং তাদের একটি ন্যায্য অধিকার।

ইবন আব্বাস (রা.) ও মুফাসসিরগণ বলেন, এই হক শুধু আর্থিক নয়; সম্মান, সম্পর্ক রক্ষা, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
এরপর বলা হয়েছে অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরের কথা। অভাবগ্রস্ত হলো সেই ব্যক্তি, যার মৌলিক প্রয়োজন পূরণের সামর্থ্য নেই। আর মুসাফির হলো পথচারী বা সফররত ব্যক্তি, যে নিজের এলাকা থেকে দূরে থাকার কারণে সাময়িকভাবে অসহায় অবস্থায় পড়ে।

ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুই শ্রেণির মানুষ সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। এখানে লক্ষ্যণীয়, আল্লাহ তাআলা সাহায্যের পরিধিকে শুধু পরিচিত গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং অপরিচিত ও সাময়িকভাবে বিপন্ন মানুষকেও এর আওতায় এনেছেন।
আয়াতের শেষ অংশে এসেছে একটি শক্ত সতর্কবাণী ‘আর কিছুতেই অপব্যয় করো না।’ আত্মীয়কে দেওয়া, গরিবকে দেওয়া বা মুসাফিরকে সাহায্য করার নামেও অপচয় করা ইসলাম সমর্থন করে না। অপব্যয় বলতে এমন খরচ বোঝানো হয়েছে, যা প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে যায়, প্রদর্শনমূলক হয় বা দায়িত্বহীন ভোগে পরিণত হয়।

কোরআনের অন্যান্য আয়াত ও হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে, অপব্যয়কারী শয়তানের ভাইস্বরূপ; কারণ অপচয় কৃতজ্ঞতার বিপরীত এবং সম্পদের আমানতদারিত্বের বিরুদ্ধে।
এই আয়াত আমাদের শেখায়, ইসলাম দান ও সংযমকে আলাদা করে দেখে না। একদিকে যেমন আত্মীয়, দরিদ্র ও মুসাফিরের অধিকার নিশ্চিত করতে বলে, অন্যদিকে তেমনি ভারসাম্যহীন ব্যয়ের পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে; যেখানে দায়িত্ব আছে, সহমর্মিতা আছে, কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল ভোগ নেই।

সংক্ষেপে বলা যায়, এই আয়াত ব্যক্তি থেকে সমাজ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ও নৈতিক নীতিমালা দেয়; হক আদায়, মানবিক সহায়তা এবং সংযত জীবনযাপন।