লাইফ স্টাইল

কাজ ও জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ছয়টি সহজ উপায়

নিউজ ডেস্ক২৮ জানুয়ারি ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ডেডলাইন, নোটিফিকেশন আর শেষ না হওয়া দায়িত্বের চাপের মধ্যে দিন কাটছে? কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এক কাজ থেকে আরেক কাজের মধ্যে ছুটতে ছুটতে জীবনের আনন্দ, শান্তি ও তৃপ্তি যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজ ও জীবনের ভারসাম্য মানে দুটিকে আলাদা করার টানাপোড়েন নয়, বরং দুটিকে সুন্দরভাবে একত্র করা। হেলথ শটসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যাপিনেস অ্যাম্বাসাডর ও আধ্যাত্মিক মেন্টর আত্মান ইন রবি বলেন, কাজ ও জীবনের টানাপোড়েনের বদলে যদি দুটিকে পরস্পরের পরিপূরক করা যায়, তাহলেই আসে আনন্দময়, উদ্দেশ্যপূর্ণ ও মানসিকভাবে সুস্থ জীবন।

তার মতে, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং কাজ-জীবনের ভারসাম্য তৈরি করতে এই ছয়টি সহজ অভ্যাস কাজে লাগতে পারে:
নিজের ‘ইকিগাই’ খুঁজুন
জাপানি জীবনদর্শনে ইকিগাই হলো এমন কিছু যা আপনি ভালোবাসেন, যেটাতে আপনি দক্ষ এবং যা বিশ্বের কাজে লাগে। যখন কাজ আপনার আগ্রহ ও দক্ষতার সঙ্গে মিলে যায়, তখন তা বোঝা নয়, বরং আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে।

আনন্দ, শান্তি ও উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দিন
প্রতিদিন এমন কিছু করুন যা আপনাকে প্রকৃত আনন্দ দেয়—এক কাপ কফি উপভোগ করা, সৃজনশীল কাজে সময় দেওয়া বা প্রকৃতির মাঝে হাঁটা। মাইন্ডফুলনেস বা ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক শান্তির জায়গা নিশ্চিত করুন।

মাইন্ডফুলনেস ও ধ্যান চর্চা করুন
ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই শ্বাস নেওয়াও ভুলে যাই। মাইন্ডফুলনেস ও ধ্যান আমাদের বর্তমান মুহূর্তে নিয়ে আসে এবং আবেগ ও ভাবনাকে বিচার না করে গ্রহণ করতে শেখায়। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট ধ্যান মানসিক স্বচ্ছতা বাড়ায়।

কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমা ঠিক করুন
অফিস শেষ হলেও কাজের চাপ মনে ঘুরলে বিশ্রাম অসম্পূর্ণ থাকে।

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করুন, অফিস কল বা ইমেইল এড়িয়ে চলুন। এতে পরিবার, শখ ও নিজের যত্নের জন্য সময় বের করা সহজ হয়।
কৃতজ্ঞতার অভ্যাস তৈরি করুন
প্রতিদিন অন্তত তিনটি জিনিস লিখুন যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃতজ্ঞতা চর্চা সুখ বাড়ায়, মানসিক চাপ কমায় এবং কাজ ও জীবনের দ্বন্দ্ব কমিয়ে দেয়।

মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখুন
সামাজিক সংযোগ মানসিক সুস্থতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বন্ধু, পরিবার বা সহকর্মীর সঙ্গে অনুভূতি ভাগ করুন। মেন্টর খুঁজুন বা আগ্রহভিত্তিক গ্রুপে যুক্ত হন। সংযোগ আমাদের একাত্মতা ও সাহস দেয়।
কাজ-জীবনের ভারসাম্য একদিনে তৈরি হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতন অভ্যাস ধীরে ধীরে গড়ে তোলে একটি সুস্থ, শান্ত ও অর্থপূর্ণ জীবন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস