সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বাঙালি খাবারদাবারে অন্যতম একটি পদ ডাল। রুটি হোক বা ভাত, ডাল ছাড়া অতৃপ্তি যেন মেটেই না! কিন্তু অনেকেরই ডাল খেলে পেট ফাঁপা, বদহজম বা গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। তারা ভাবেন, এর জন্য হয়তো দায়ী ডালের ফেনা।
ডাল রান্নার সময়ে এই যে সাদা ফেনা পাত্রের ওপর উঠে আসে সেটা আদতে কী? ডাল কি আদৌ প্রেশার কুকারে সিদ্ধ করা উচিত? অনেকেই ডালের এই ফেনা তুলে নেন।

তাদের ধারণা, এই ফেনা অপুষ্টিকর, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এই ধারণা কি আদৌ ঠিক?
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফেনা বিষাক্ত বা ক্ষতিকারক নয়। এতে থাকে প্রোটিন, অল্প স্টার্চ ও স্যাপোনিন নামে এক প্রাকৃতিক যৌগ। এই যৌগ সয়াবিন, চা, শিমের মতো উদ্ভিদ এবং কিছু সামুদ্রিক প্রাণীতে পাওয়া যায়, যা পানিতে মিশলে সাবানের মতো ফেনা তৈরি করে।
চিকিৎসকরা জানান, অল্প পরিমাণে খেলে স্যাপোনিন কোলেস্টেরল, প্রদাহ ও ইউরিক এসিড কমাতে পারে। ওষুধ ও প্রসাধনী শিল্পেও ব্যবহৃত হয় এই স্যাপোনিন। তবে স্যাপোনিন বেশি মাত্রায় খেলে ডাল তেতো লাগতে পারে। পাশাপাশি, অন্ত্রের আস্তরণের ক্ষতি হতে পারে।
তবে, ইরিটেবল বাওল সিনড্রোমের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ফেনা ক্ষতিকারক। পেটে অস্বস্তি হতে পারে। চিকিৎসকরা জানান, ডালের ফেনার কারণে পেটফাঁপার সমস্যা হয় না। ডালের মধ্যে ফডম্যাপ নামে কিছু জটিল শর্করা থাকে, যেগুলো ঠিকমতো হজম হয় না । ফলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসক জানান, ডালে থাকা ফডম্যাপ ভেঙে দেওয়ার আদর্শ উপায় হলো ডাল প্রেশার কুকারে রান্না করা। প্রেশার কুকারের উচ্চ তাপমাত্রা ফডম্যাপ ভেঙে যেতে পারে। স্যাপোনিনও ভেঙে যায় প্রেশার কুকারে। তাই গ্যাস ও পেটফাঁপার সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য ডালের ফেনা ফেলে দিতে হবে না, বরং প্রেশার কুকারে রান্না করুন। আর ডাল রান্না করার আগে ভালো করে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি ফেলে দিন। এতে হজমের সমস্যাও মিটবে।
সূত্র : নিউজ ১৮









