সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বিয়ে এমন এক বন্ধন, যা অদৃশ্য; কিন্তু মজবুত। বাকি জীবন হাতে হাত রেখে একসঙ্গে সুখ ও দুঃখের পথ পাড়ি দেওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা থেকে শুরু হয় এ পথচলার। নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ, সবই একসময় চেনাজানা হয়ে যায়। তবু ভালোবেসে সারা জীবন একে অন্যের পাশে থাকে দুজন মানুষ। হয়তো কখনো ঝড় আসে, ঘর নড়বড় করে, কখনো বা ভেঙেও পড়তে চায়। তবু শক্ত হাতে সঙ্গীর দুটি হাত জড়িয়ে রাখলে, সেই ঘর টিকে যায় শত ঝড় কিংবা সাইক্লোনেও। বিয়ে দুটি মানুষের পথচলার শুরু শুধু নয়, দুটি পরিবারেরও আত্মীয়তার বন্ধন গড়ে তোলার এক রীতি। আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু ও স্বজনের শুভকামনা নিয়ে নতুন একটি পরিবার গড়ার শুরু হয় বিয়ে নামক রীতি থেকেই। শীতের মৌসুমকে আমাদের দেশে বলা হয় বিয়ের মৌসুমও। যে কারণে বিয়ের আয়োজনে আত্মীয়-পরিজনদের একত্রিত করার সুযোগ পাওয়া যায়। আর বিয়ের আয়োজন মানে মুখের কথা নয়। এখন তো শুধু বরযাত্রা কিংবা বৌভাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আরও অনেক আয়োজন থাকে বিয়েকে কেন্দ্র করে। সেসব সুষ্ঠুভাবে সামলে নেওয়া কি কম কথা! অনেকে এক্ষেত্রে দ্বারস্থ হন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির। কারও আবার অতটা সামর্থ্য বা সুযোগ না থাকলে নিজেরাই নেমে পড়েন আয়োজন সম্পন্ন করতে। বাকিরা যে যা-ই করুক, বিয়ের কেনাকাটা সারতে হয় বর আর কনের কাছের মানুষদেরই। আরও আগে এ ধরনের কেনাকাটার সময় বিয়ের কনের উপস্থিত থাকাটা সাধারণ ছিল না, তবে সেসব নিয়ম এখন অনেকটাই শিথিল হয়েছে। যার বিয়ে, পোশাক-আশাক তারই পছন্দে কেনাটাই কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়? তাইতো নিজের বিয়ে পোশাক কিনতে হবু কনেকে লাজুক মুখ নিয়ে উঁকি দিতে দেখা যায় শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গার দোকানগুলোতে। অনেকে বিয়েতে শাড়ি পরতে চান, কেউ আবার চান লেহেঙ্গা। যেহেতু বাঙালি নারী মানেই শাড়ি, তাই বিয়ের দিন লাল টুকটুকে একখানা শাড়ির আবেদনই আলাদা। তবে এটি এমন কিছু নয়, মানতেই হবে। বিয়ের শাড়ি কিংবা পোশাক মানেই যে লাল রং হতে হবে, সে ধারণা দূর হয়েছে তা-ও অনেকদিন। এখন তো বিয়েতে লাল ছাড়াও মেরুন, গোলাপি, নীল, সবুজ, বেগুনি এসব রঙের পোশাকও অহরহ চলছে। তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে সাদা কিংবা অফ হোয়াইট রঙের পোশাক। আলাদা এক ধরনের স্নিগ্ধতা থাকে বলে এ ধরনের সাজসজ্জা সহজেই নজর কাড়ে। বিয়ের সাজের বেশির ভাগই দখল করে নেয় বিয়ের কনে। তাই বলে কি বেচারা বরের ভাগে কিছুই থাকবে না? কিছু তো থাকেই। এখনকার ছেলেরাও অনেক বেশি ফ্যাশন সচেতন। তাইতো বিয়ের সাজ আর পোশাকের ক্ষেত্রে তারাও পিছিয়ে নেই। জীবনের বিশেষ একটি দিনকে একটু বেশিই সুন্দর করে রাখতে কে না চায়।
বিয়েতে কনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শেরওয়ানি কিংবা ব্লেজার স্যুট বেছে নেন বেশির ভাগ বর। তবে বরযাত্রায় এখনো শেরওয়ানি পরার প্রচলনই বেশি। সঙ্গে রাজকীয় একখানা পাগড়ি না থাকলেই নয়। এ ছাড়া বরের জুতা, ঘড়ি, সানগ্লাস এসব ক্ষেত্রেও আছে নিজের রুচিকে তুলে ধরার সুযোগ। শুধু পোশাকের কথা লিখতেই এতখানি বলা হয়ে গেল। আসলে বিয়ের আয়োজন

এত বিস্তৃত থাকে যে, এ নিয়ে লিখতে গেলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যাবে। এ এক আনন্দ আয়োজন, আমাদের দেশে যাকে কেন্দ্র করে মনোমালিন্যও কম ঘটে না। তাইতো বিয়ের বর-কনের মনে আনন্দের থেকেও বেশি দুশ্চিন্তা ঘিরে থাকে বেশি। দুজন মানুষ একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছে, সেখানে সবার উচিত শুভকামনা জানানো, ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করে মানুষ দুটিকে হাসিখুশিভাবে জীবন শুরু করতে দেওয়া। এতে তাদের বাকি জীবন আরও সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে। অনেক বছর পর যখন তাদের এ বিশেষ দিনটির কথা মনে পড়বে, ঠোঁটের কোণে যেন এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে অনায়াসে, এটুকু নিশ্চিত করা শুভাকাক্সক্ষী হিসাবে আপনার-আমার দায়িত্ব।









