সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
অনেকেই প্রস্রাবকে শুধুই শরীরের বর্জ্য মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এটি কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। কিডনি রক্ত ছেঁকে প্রস্রাব তৈরি করে, যার স্বাভাবিক রং হালকা হলুদ থেকে অ্যাম্বার হয়ে থাকে। এই রঙে পরিবর্তন দেখা দিলে তা কিডনির ওপর চাপ বা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
প্রস্রাবের রং নানা কারণে বদলাতে পারে। সব পরিবর্তনই যে রোগের লক্ষণ, তা নয়; তবে কিছু নির্দিষ্ট রং ও বৈশিষ্ট্য উপেক্ষা করা উচিত নয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রস্রাবের রং ও কিডনির স্বাস্থ্যের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্রাবের রং কেন গুরুত্বপূর্ণ
সুস্থ কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য বের করে এবং তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। ইউরোক্রোম নামের রঞ্জক পদার্থ প্রস্রাবকে হলুদ রং দেয়। পানি পান ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে এই রং হালকা বা গাঢ় হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক রং থাকলে এবং অন্য উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
গাঢ় বাদামি বা চা রঙের প্রস্রাব
প্রস্রাব যদি চা বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়, তাহলে এতে বর্জ্য জমে থাকা বা রক্তের উপস্থিতি থাকতে পারে। গুরুতর কিডনি সমস্যায় কিডনি ঠিকমতো বর্জ্য ছেঁকে ফেলতে না পারলে এমন রং দেখা দেয়। গবেষণা অনুযায়ী, এ ধরনের রং কিডনির অতিরিক্ত চাপ বা কিডনি বিকলের সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে।
সতর্কতা: পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি এই রং না বদলায়, কিংবা এর সঙ্গে ক্লান্তি ও শরীর ফোলার মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে পরীক্ষা জরুরি।
লাল বা গোলাপি প্রস্রাব
প্রস্রাবে রক্ত থাকলে সেটি লাল বা গোলাপি দেখাতে পারে, যাকে হেমাটুরিয়া বলা হয়। যদিও বিটজাতীয় খাবার খেলে সাময়িকভাবে এমন রং হতে পারে, তবে রক্ত থাকলে বিষয়টি গুরুতর হতে পারে। এটি কিডনির ফিল্টার, পাথর বা সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
সতর্ক লক্ষণ: ২৪–৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রং না বদলানো, পিঠ বা পাশে ব্যথা, জ্বর বা ঘন ঘন প্রস্রাব হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
ফেনাযুক্ত বা মেঘলা প্রস্রাব
প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা দিলে তা প্রোটিনুরিয়ার লক্ষণ হতে পারে, অর্থাৎ প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। ফেনা সবসময় রঙের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও এর স্থায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
এর তাৎপর্য: কিডনির ফিল্টার দুর্বল হলে প্রোটিন লিক হতে পারে। তাই ডিপস্টিক প্রস্রাব পরীক্ষা ও কিডনির কার্যকারিতা যাচাই করা প্রয়োজন।
ক্রমে গাঢ় হলুদ প্রস্রাব
গাঢ় হলুদ প্রস্রাব সাধারণত পানিশূন্যতার লক্ষণ। পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি রং হালকা না হয়, তবে কিডনি তরলের ভারসাম্য রক্ষা করতে সমস্যায় পড়ছে বলে ধারণা করা যায়। দীর্ঘদিন পানিশূন্য থাকলে কিডনিতে পাথর ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।
করণীয়
নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এরপরও যদি প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক না হয়, কিংবা রঙ পরিবর্তনের সঙ্গে জ্বর, ব্যথা, রক্ত, ফোলাভাব বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র- টাইমস অব ইন্ডিয়া









