ধর্ম

মুদ্রায় ইসলামের কোনো নিদর্শন খোদাই করা

নিউজ ডেস্ক২ জানুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ইমাম মাকরিজি (রহ.) বলেন, উমর (রা.) তাঁর খেলাফতকালে রৌপ্যমুদ্রাতে হুবহু কিসরার (পারস্য মুদ্রার) ছাপ দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি এগুলোর কোনোটিতে ‘ আলহামদুলিল্লাহ’, কোনোটিতে ‘রাসুলুল্লাহ’, আবার কোনোটিতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই) ইত্যাদি শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে উসমান (রা.) খিলাফতে আসীন হয়ে রৌপ্যমুদ্রায় ‘আল্লাহু আকবার’ অঙ্কিত করেছিলেন।

আবদুল্লাহ বিন জুবাইর (রা.) মক্কা ও এর আশপাশের অঞ্চলসমূহে খিলাফত কায়েম করে রৌপ্যমুদ্রাগুলোকে গোলাকার রূপ দান করেন এবং এগুলোর এক পিঠে ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এবং অন্য পৃষ্ঠায় ‘আল্লাহ ওয়াদা পূর্ণ করা ও ন্যায়ানুগ থাকার ব্যাপারে আদেশ দান করেছেন’ খোদাই করে দিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে আবদুল মালিক বিন মারওয়ান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে মুদ্রাব্যবস্থাতে ওজন ও পরিমাণ স্থায়ীভাবে ঠিক করে দেন। তিনি নতুন ওজন পরিমাণে (বিশেষ আদলে) হিজরি ৭৬ (ছিয়াত্তর) সালে দিনার ও দিরহাম প্রচলন করেছিলেন।
উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের সময়ে মুদ্রায় কলেমার ব্যবহার শুরু হয়। পরে মুসলিম শাসকদের মুদ্রায় কলেমার ব্যবহার বহুলভাবে দেখা যায়।

(ইগাসাতুল উম্মা বি কাশফিল গুম্মা, পৃ. ৫১-৫৫)
বাংলার মুদ্রায় মুসলিম খিলাফতের চার ধরনের প্রকাশ দেখা যায়—

(১) মুদ্রায় সরাসরি খলিফার নাম উল্লেখ। যেমন—গিয়াসউদ্দিন খলজির ৬১৯ অথবা ৬১৭ হিজরি (১২২২ বা ১২২০ খ্রি.) ও ৬২১ হিজরির (১২২৪ খ্রি.) মুদ্রা।

(২) আব্বাসীয় খলিফাদের নাম অনুপস্থিত ছিল; কিন্তু খিলাফতের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা হয়। যেমন—৭৮১ হিজরিতে (১৩৭৯ খ্রি.) সুলতান সিকান্দর শাহ (১৩৫৮-১৩৯০ খ্রি.) প্রবর্তিত মুদ্রার গৌণ দিকে উত্কীর্ণ রয়েছে ‘ইয়ামিন খলিফাতুল্লাহ নাসির আমির আল মুমিনিন শামসুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন খুল্লিদাত খিলাফাতাহু’।

(৩) মুদ্রায় কলেমা ও নবী (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য বা সম্পর্কসূচক লিপির উদ্ধৃতি। যেমন—আলাউদ্দিন হোসেন শাহর ৮৯৯ হিজরিতে (১৪৯৩ খ্রি.) উত্কীর্ণ মুদ্রার মুখ্য দিকে আছে কলেমা এবং গৌণ দিকে উত্কীর্ণ রয়েছে ‘আস সুলতান আল আদিল আল বাজিল ওয়ালাদ-ই সাইয়িদ উল মুরসালিন’।

(৪) মুদ্রায় নিজেকে খলিফা ঘোষণা করা। যেমন—সুলতান জালালুদ্দিন মুহম্মদ শাহর ৮৩১ হিজরিতে (১৪২৭ খ্রি.) উত্কীর্ণ মুদ্রার গৌণ দিকে বৃত্তের ভেতর লেখা রয়েছে ‘খলিফাতুল্লাহ নাসির আল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন’। (বাংলাপিডিয়া)

এসব বিবরণ থেকে মুদ্রায় ইসলামের কোনো নিদর্শন প্রকাশ করার প্রচলন ইসলামের সোনালি যুগ থেকেই দেখা যায়।

তাই এ বিষয়ে অবকাশ আছে। তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে কোরআনের আয়াত খোদাইকৃত মুদ্রা অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যাবে কি না?
আসলে কোরআনের আয়াত/অংশ খচিত মুদ্রা অজুহীন অবস্থায় ছোঁয়া ও বহন করা যাবে কি না তা নিয়ে ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। বেশির ভাগ ফকিহর অভিমত হলো, এ ধরনের মুদ্রা অজুহীন অবস্থায় ছোঁয়া ও বহন করা হারাম নয়। পক্ষান্তরে কেউ কেউ এজাতীয় মুদ্রা স্পর্শ ও বহন করা হারাম বলে মন্তব্য করেছেন, আবার অন্য কেউ মাকরুহ হওয়ার অভিমত পেশ করেছেন।’ (জাওয়াহিরুল ইকলিল, খ. ১, পৃ. ২১; ইবনে কুদামা, আল-মুগনি, খ. ১, পৃ. ১৪৮ ৩য় মুদ্রণ)