রাজনীতি

জামানত বাজেয়াপ্তের ভয়ে তারা আগে গণভোট চাইছে

নিউজ ডেস্ক১০ নভেম্বর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় ভোট আর গণভোট একসঙ্গে হলে খরচ কমবে। অথচ তারা আগে গণভোট চায়। কারণ আগে ভোট হলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তারা টিকতে পারবে না।

’ গতকাল রবিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া প্রমাণ করেছে যে তাঁর দলের কর্মী এবং দেশের জনগণের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্রও দরদ ছিল না। তিনি কর্মীদের অসহায় অবস্থায় রেখে গেছেন। এ প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই মাটিতেই আমাদের জন্ম, এই মাটিতেই আমরা থাকি, এখানেই সুখ-দুঃখের সঙ্গে বাঁচি এবং মরলে এই মাটিতেই মরব।

দেশের মাটি ছেড়ে কখনো যাব না।’ ব্যক্তিগত ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি বহু কষ্ট করেছি। আপনারা জানেন, আমি ১১ বার জেলে গেছি। পুলিশ আমাকে সেই সেলে পাঁচ দিন আটক করে রেখেছিল, যে সেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাখা হয়।
আপনাদের দোয়ায়, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেখান থেকে মুক্তি পেয়েছি।’
তিনি তাঁর দলের চেয়ারপারসনের প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ছয় বছর বিনা দোষে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। আর আমাদের ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সামনে আমাদের নির্বাচন উপস্থিত। এই নির্বাচনে আপনারা ভোট দেবেন তো? এবার ভোটব্যবস্থা তৈরি হয়েছে তো? সবাই ভোট দিতে পারবেন তো?’

কর্মীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এবার মার্কা কয়টা? মার্কা একটা দেখছেন—ধানের শীষ।

নৌকাটা এবার দেখা যাচ্ছে না। আরেকটা দেখা যায়—দাঁড়িপাল্লা। দাঁড়িপাল্লাও এবার ইলেকশন করবে। সুতরাং আপনাদের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের মধ্যে বেছে নিতে হবে প্রার্থী।’
দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও সাধারণ মানুষের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ধানে-আলুতে এবার মাইর খাইছে কৃষক। আলু হিমাগার থেকে আনছে না। তার মানে, কৃষিকাজ করে তারা লাভবান হতে পারছে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের কষ্ট বোঝে না। বিএনপি সরকারে এলে কৃষকদের এবং মা-বোনদের সুবিধা দেওয়ার জন্য দুটি বিশেষ কার্ড চালু করা হবে। সব বাড়ির মায়েদের কাছে একটি করে কার্ড থাকবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মায়েরা ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ কিনতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। প্রতিটি কৃষকের কাছে এই কার্ড থাকবে। এর মাধ্যমে কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার, বিষ, সেচের পানি এবং তাঁর ফসলের ন্যায্য বাজার করতে পারবে।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে টানাহেঁচড়া উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা দল বলছে, গণভোট হতে হবে নির্বাচনের আগে। এই সাধারণ মানুষ আপনারা এত কিছু কি বোঝেন?’ উপস্থিত জনতার নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণভোট, সনদ—এইসব কি আমরা বুঝি? বুঝি না কিছু। এইসব বুঝে শিক্ষিত উঁচুতলা থেকে কিছু লোক আসছে, আইসা আমাদের ঘাড়ের ওপর চাপাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি যতগুলো পরিবর্তন বা সংস্কার করতে চায়, সেগুলোর সঙ্গে তারা রাজি আছে। তবে যেটাতে রাজি হচ্ছে না সেটা হচ্ছে, পার্লামেন্টে যাওয়া। অথচ পার্লামেন্টে গিয়ে তর্কবিতর্ক হবে, ভোটাভুটি হবে, সেখানে আইন পাস হবে।’

গণহত্যা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, জুলাইয়ে গণহত্যা হয়েছিল; ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও গণহত্যা হয়েছিল। এই দুইটার মধ্যে পার্থক্য একটাই—তখন পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের এখানকার কিছু লোককে নিয়ে তারা এই গণহত্যা করেছিল, আর এইবার শেখ হাসিনা তার প্রশাসনকে দিয়ে আমাদের ছেলেগুলোকে মেরেছে।’