সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের সাতটি কারখানা এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় চালু হয়েছে। সংঘর্ষ ও শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গত ১৬ অক্টোবর বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলো ফের সচল হওয়ায় ৩৫ হাজার শ্রমিকের কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা দূর হলো, একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে এক স্বস্তির বার্তা এলো।
উল্লেখ্য, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ দেশের তৈরি পোশাক খাতে এক উজ্জ্বল নাম। প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের হাত ধরে ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির।

বর্তমানে নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁর সন্তান সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। এই গ্রুপে প্রত্যক্ষভাবে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। জাতীয় রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি হ্যাটট্রিকসহ টানা সাতবার স্বর্ণপদক পেয়েছে। সব মিলিয়ে ২৪টি জাতীয় রপ্তানি পুরস্কার অর্জন করেছে তারা।
দেশের ছয় শতাধিক কারখানার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক ইয়াংওয়ান গ্রুপের পরেই এখন প্যাসিফিকের অবস্থান, যা দেশের ইপিজেডগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত।
গার্মেন্টস ব্যবসার বাইরে তারা হোটেল ব্যবসায়ও বিনিয়োগ করেছে এবং বিশ্ববিখ্যাত ম্যারিয়ট হোটেল চেইনের সঙ্গে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় একটি পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ করছে। বর্তমানে গ্রুপটির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
গত ৯ অক্টোবর শ্রমিক বিক্ষোভে অস্থিরতা শুরু হয়, যা ১৬ অক্টোবর সংঘর্ষে রূপ নিলে অন্তত ২৭ জন শ্রমিক আহত হন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী প্যাসিফিক জিন্স কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে প্যাসিফিক অ্যাটায়ার্স লিমিটেড, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড, জিন্স ২০০০ লিমিটেড, এনএইচটি ফ্যাশনস লিমিটেড, ইউনিভার্সাল জিন্স লিমিটেড, প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যারস লিমিটেড ও প্যাসিফিক অ্যাকসেসরিজ—এই সাতটি কারখানায় পূর্ণ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং পুরোদমে উৎপাদন চলছে। কারখানাগুলো পুনরায় চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, ৩৫ হাজার শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় থাকলে বন্দরনগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, যা অন্যান্য তৈরি পোশাক কারখানাকেও প্রভাবিত করতে পারত।
সিইপিজেড এলাকার চারপাশে শিল্প পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বেপজা সিকিউরিটির সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রমিক অসন্তোষের জেরে এই সপ্তাহে কারখানা বন্ধ থাকায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দেশের রপ্তানি খাতে টানা স্বর্ণপদক জয়ী এই গ্রুপ।









