ছবিঘর

তিনি আমার চোখ বেঁধে রাস্তায় নামিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করেননি

নিউজ ডেস্ক৭ অক্টোবর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

সেপ্টেম্বরে আপনার অভিনীত বেশ কয়েকটি কনটেন্ট এসেছে। কেমন গেল মাসটা?

অসাধারণ। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ‘খোয়াবনামা’ নিয়ে খুব প্রশংসা পাচ্ছিলাম। ক্যারিয়ারে অভিনয় নিয়ে এত প্রশংসা আগে কখনো পাইনি।

এর পরই ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ ফেরা, নেহালের [ধারাবাহিকটিতে তৌসিফের চরিত্র] প্রতি মানুষ যে ভালোবাসা দেখিয়েছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। বিয়ন্ড এক্সপেক্টেশন। এতটা প্রত্যাশা আমাদেরও ছিল না। আর ‘অন্ধ বালক’ ও ‘অপ্রেমিক’ দুটোই খুব মানসম্পন্ন, গল্পনির্ভর কাজ।

দুটোতেই আমার সঙ্গে রয়েছে সাদিয়া আয়মান। এই দুটি কাজ থেকে অনেক বেশি রেসপন্স আশাও করিনি; প্রত্যাশা ছিল যারাই দেখবে, তাঁরা যেন আমাকে ফিল করতে পারে, আমার অভিনয়ের উন্নতিটা দেখতে পারে। সেই হিসেবে দুটো কনটেন্ট নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।
ব্যাচেলর পয়েন্টে যত দিন ছিলেন না, এর কোন জিনিসটা মিস করেছেন?

ব্যাচেলর পয়েন্টের সেট এবং টিমটা ভীষণ মিস করেছি।

এই টিমটা খুবই চমৎকার।
ক্যামেরার বাইরে আপনাদের [ব্যাচেলর পয়েন্ট টিম] আড্ডাগুলো কেমন হয়?

ক্যামেরার বাইরে শুধু চরিত্রগুলো পরিবর্তন হয়, মানে নাটকের মতো কেউ কাউকে হয়তো দোস্ত বলি না; একে-অপরকে ভাই বলি; তবে আড্ডা, মজা সব প্রায় একই। ফুটবল কিংবা ক্রিকেট টিমের মধ্যে যে রকম বন্ডিং, আমাদের বন্ডিংও তেমনই। সেই বন্ডিং মিস করেছি। আমাদের আড্ডাগুলো খুব মনখোলা হয়, এ রকম আড্ডা অন্য কোথাও দিতে পারি না।

একসঙ্গে চলাফেরা করি, কোথাও খেতে গেলে সবাই একসঙ্গে যাই। এই টিমওয়ার্ক বা বন্ডিং আমি খুব এনজয় করি এবং বিশ্বাস করি।
কদিন আগেই সোহেল রাজের নাটক ‘অপ্রেমিক’ এলো, কেমন সাড়া পেলেন?

খুব ভালো। আমার স্কুল-কলেজের বন্ধু যারা, ওরা নিজেদের জীবন নিয়ে খুব ব্যস্ত মানুষ। ফলে আমার সব নাটক দেখার সুযোগ পায় না। তবু চেষ্টা করে। তো যখন ওদের কাছ থেকে মেসেজ পাই, প্রশংসা পাই, তখন বুঝতে পারি কাজটা ওদের ভালো লেগেছে। ‘অপ্রেমিক’ নিয়ে এ রকম অনেক বন্ধুর কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি।

ভিকি জাহেদের ‘অন্ধ বালক-এ চোখে কালো কাপড় বেঁধে রাস্তা পার হয়েছেন দেখলাম। এই দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

শুটিং করতে খুব কষ্ট হয়েছিল। ভিকি জাহেদ এমন নির্মাতা, যিনি আমাকে কবরে শুইয়ে জীবিত সাপ ছেড়ে দিয়েছিলেন, তিনি এ রকম চোখ বেঁধে রাস্তায় নামিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করেননি! প্রথমে প্ল্যান ছিল, চোখ টাইট করে বেঁধে রাস্তা বন্ধ করে শটটা নেওয়া হবে, পরে গাড়ি চলাচলের সময় বাঁধনটা একটু ঢিলা রাখা হবে, যেন আমি কিছুটা দেখতে পাই। কিন্তু ভিকি জাহেদের মনে হলো, তাতে দৃশ্যটা ঠিকঠাক হবে না। তাই চোখে বাঁধনটা শক্ত করেই বাঁধা হয়, আর মূল সড়ক নিজেই পার হওয়ার চেষ্টা করি। তবে আমাকে দেখে গাড়িগুলো বারবার দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। এসব প্রব্লেম কাটিয়েই দৃশ্যটা করতে হয়েছিল।

নতুন আর কী করছেন?

একটা কাজ করছি, যেটা দিয়ে সবাইকে চমক দিতে চাই। আপাতত খোলাসা করতে পারছি না। এ মাসের শেষদিকেই সব জানাব।

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছিলেন, কয়েক দিন আগে সেখানকার একটি আয়োজনে বিচারক হয়েছিলেন। ওটা আসলে কিসের প্রতিযোগিতা ছিল?

অভিনয় নিয়ে একটা প্রোগাম। হ্যারি পটারের বিভিন্ন চরিত্র সেজে অভিনয় করেছিল শিক্ষার্থীরা, ইট ওয়াজ ভেরি ফান ইভেন্ট। আসলে আমার তো ওই বয়সটাই হয়নি যে কাউকে বিচার করব। কেবল নিজের ভার্সিটিতে ফেরার মতো একটা ব্যাপার। সবাই আমাদের [সঙ্গে সাবিলা নূর ও শঙ্খ দাশগুপ্ত] বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছিল। প্রতিযোগীদের অভিনয় উপভোগ করলাম। প্রায় ১৪ বছর পর নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। সবমিলিয়ে দারুণ ছিল দিনটা।